১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মেঝেতে পড়ে ছিল স্বামীর লাশ ও আহত ছেলে, পাশেই ফোনে মগ্ন স্ত্রী

ঘটনাটি ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ধারওয়াড়ের। প্রতিবেশীরা খবর দিয়েছিল পুলিশকে। তখনও বেঁচে ছিল ৮ বছরের ছেলেটি। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মেঝেতে পড়ে ছিল স্বামীর লাশ ও আহত ছেলে, পাশেই ফোনে মগ্ন স্ত্রী
নিহত চিকিৎসক স্বামী কিরণ নান্নাভার স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা। ছবি: এনডিটিভি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jul 2026, 11:06 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:40 PM

চিকিৎসক স্বামীকে ফ্ল্যাটের ভেতরে খুনের অভিযোগ। স্ত্রী নিজেও একজন চিকিৎসক। দম্পতির ৮ বছরের ছেলেও ছুরিকাঘাতে আহত। সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যে দৃশ্য দেখেছে তা সবচেয়ে বেশি রহস্যজনক।

ঘটনাটি ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ধারওয়াড়ের। প্রতিবেশীরা খবর দিয়েছিল পুলিশকে। তদন্তকারীরা সেখানে গিয়ে দেখতে পান ফ্ল্যাটের মেঝেতে রক্ত। স্বামীর রক্তাক্ত দেহ আর ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পাশেই বিছানায় শুয়ে মোবাইলে কিছু দেখছিলেন স্ত্রী।

তখনও বেঁচে ছিল ৮ বছরের শিশুটি। ফলে তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় পুলিশ কমিশনার জানান, পুলিশকর্মীরা ভেবেছিলেন ছেলেটি মারা গেছে। তবে তিনি কাছে গিয়ে দেখেন সে বেঁচে। তখনই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মারা যাওয়া চিকিৎসকের নাম কিরণ। তার স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ও বুধবার সকালে কিরণের আত্মীয়রা ফোন করেছিলেন প্রিয়ঙ্কাকে। সে তাদের জানিয়েছিল, কিরণ বিশ্রাম নিচ্ছে। পরে জানায়, কাজে গেছে।

তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কিরণের কোনও খবর পাননি প্রতিবেশী, স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা। তখনই তাদের মনে সন্দেহ দানা বাধে।

এরপর দীর্ঘক্ষণ ফোনে না পাওয়ায় তারা ধারওয়াড়ের কর্নাটক ইউনিভার্সিটি রোডের 'রাঙ্কা স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টস'-এর ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং পুলিশকে খবর দেন। 

কর্নাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরু থেকে প্রায় ৪৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আবাসনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত।

পুলিশ জানায়, ৪৫ বছর বয়সী নিহত কিরণ হো নান্নাভা পেশায় একজন অ্যানেসথেটিস্ট (অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞ) ছিলেন। তার গলায় ছুরিকাঘাতের মারাত্মক ক্ষত ছিল। আর তার স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। পুলিশ প্রিয়ঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

হুবলি-ধারওয়াড় পুলিশ কমিশনার এন শশীকুমার জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, বাইরে থেকে কোনো বহিরাগত ফ্ল্যাটে ঢোকেনি। ওই বহুতল ভবনটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং ঘটনার সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে শুধু ওই দম্পতি এবং তাদের সন্তানই ছিল।

ফ্ল্যাটের ভেতরের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ডা. কিরণ একটি ঘরে খালি গায়ে উপুড় হয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। অন্য একটি ঘরে মেঝেতে পড়ে ছিল তাদের আহত ছেলেটি, যার শরীরের ওপর কিছু কাপড় রাখা ছিল। আর প্রিয়ঙ্কাকে সেই একই ঘরের বিছানায় শুয়ে ফোনে মগ্ন থাকতে দেখা যায়।

তদন্তকারীরা জানান, জ্জ্ঞিাসাবাদে প্রিয়ঙ্কাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হয়েছে। তিনি একেকবার একেক রকম অসংলগ্ন কথা বলেছেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই ঘটনার পেছনে পারিবারিক কলহ রয়েছে। আহত শিশুটির অটিজম রয়েছে বলেও জানা গেছে, তবে বিষয়টি যাচাই করে দেখছে পুলিশ।

এই ঘটনায় স্থানীয় শহরতলি (সাবারবান) থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিরণের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে বাকি তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।