Published : 09 Aug 2026, 07:10 PM
সৌদি আরবের জাজান প্রদেশে আরামকো তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে অস্থিতিশীলতা থেকে তুরস্ক ও পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের দুইদিন পর সৌদি আরবে এই হামলা হল।
"ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনও শান্তির শর্ত নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে থাকায়, গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে।
এর কারণ হিসেবে তারা তাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের তৈরি একটি অবরোধের কথা উল্লেখ করেছে। তবে সৌদি আরব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, তেল শোধনাগারে আগুন লেগে গিয়েছিল। তবে পরে সেটি নেভানো হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। তবে এর কোনও কারণ জানায়নি।
হুতিরা শোধনাগারে হামলায় ড্রোন ব্যবহার করেছিল বলে এক্সে জানিয়েছেন তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি।
জাজানে এর আগেও তারা হামলা চালিয়েছিল। জাজান তেল শোধনাগারে দিনে চার লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়া করা হয়। হুতিরা লোহিত সাগরের ইয়ানবুতেও হামলা চালিয়েছিল।
তারা ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী ঐতিহাসিক বন্দর নগরী মোখাতেও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন সারি।
এই নগরীটি এডেন-ভিত্তিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি আরব সমর্থিত।
ইয়েমেনের তিন সরকারি সূত্র রয়টার্সকে বলেছেন, হুতি বিদ্রোহীরা বন্দরের বাণিজ্যিক ঘাট এবং মাল রাখার গুদামের দিকে কিছু ড্রোন ছুঁড়েছিল।
আর সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী সেই ড্রোনগুলোকে মাঝপথে প্রতিহত করার জন্য কাজ করছিল। সারি বলেন, হুতি হামলায় ওই এলাকার সৌদি সেনা এবং অস্ত্রের গুদামকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বছরজুড়ে চলা আঞ্চলিক উত্তেজনার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়।
এর পর থেকেই ইরান এবং এর মিত্র শিয়া মুসলিম সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে এবং তাদের জ্বালানি সরবরাহ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের বলেন, কোম্পানির স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার কারণে তেল উৎপাদন সাময়িক ব্যাহত হলেও এর ফলে কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রম বা আর্থিক ক্ষতিতে বড় ধরনের কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এবং কাজে বিঘ্নও দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।