১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কুয়ালালামপুরে যৌন চক্রের ২৩ জন আটক, লক্ষ্য ছিল ‘বাংলাদেশি গ্রাহকরা’

এক বাংলাদেশি পুরুষ এবং থাইল্যান্ডের এক নারী এ চক্রের হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কুয়ালালামপুরে যৌন চক্রের ২৩ জন আটক, লক্ষ্য ছিল ‘বাংলাদেশি গ্রাহকরা’
ছবি: দ্য সান।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 06:02 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:52 PM

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে যৌন পেশার সঙ্গে জড়িত নারীসহ ২৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। মূলত ‘বাংলাদেশি গ্রাহকদের’ লক্ষ্য করে একটি চক্র এই ব্যবসা চালাত বলে তথ্য দিয়েছে তারা। 

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে বাংলাদেশি গ্রাহকদের লক্ষ্য করে এই যৌন পেশা চলছিল। এর জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত আদায় করা হত। এ ঘটনায় দুই স্থান থেকে নারীসহ ২৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর জেনারেল জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে কুয়ালালামপুরের জালান কুচাই লামার একটি আবাসিক ভবন এবং জালান গেলুগোরের কাছে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে আটক করা হয়। সাধারণ মানুষের গোপন তথ্য এবং দুই সপ্তাহের টানা গোয়েন্দা নজরদারির পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অভিযানকালে যৌন কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৩ জন পুরুষ রয়েছে; যারা মিয়ানমারের নাগরিক। এছাড়া আটককৃত নারীদের মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশি, ১৪ জন ইন্দোনেশীয়, ২ জন ভিয়েতনামী এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

জাকারিয়া শাবান বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেখা গেছে, আটককৃত কোনো বিদেশি নাগরিকের কাছেই মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ নথি ছিল না। যে বাসা দুটি থেকে তাদের আটক করা হয়, সেগুলোর বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হত গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য। বিশেষ করে ক্লাং উপত্যকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে।

“এক বাংলাদেশি পুরুষ এবং থাইল্যান্ডের এক নারী এই চক্রের মূল হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা শ্রমিকদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে তাদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতেন। একজন মালয়েশীয় পুরুষও তাদের সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার দায়িত্ব ছিল ব্যবসার জায়গাটি নিয়ন্ত্রণ ও পাহারা দেওয়া।”

ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর বলছেন, চক্রটি গত দুই মাস ধরে সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে ৪টি বাংলাদেশি, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার ১টি করে পাসপোর্টসহ বেশ কিছু মোবাইল ফোন, ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ থেকে উপার্জিত নগদ ১ হাজার ২১৫ রিঙ্গিত বাজেয়াপ্ত করেছেন।

জাকারিয়া জানিয়েছেন, আটককৃতদের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য ইমিগ্রেশন অফিসে নেওয়া হয়েছে।