Published : 07 Aug 2026, 01:42 PM
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে নবম শ্রেণির এক ছাত্র তার দাদা-দাদিকে গুলি করে মেরে স্কুলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে, তাতে প্রাণ গেছে আরো পাঁচজনের।
স্থানীয় পুলিশের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকধারী শিক্ষার্থী নিজেও মারা গেছে। তবে সে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে নাকি আত্মহত্যা করেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রয়টার্স লিখেছে, শুক্রবার সকালে ব্যাংককের কাছে ননতাবুরি প্রদেশের বাং ক্রুয়াই জেলার ‘দেবসিরিন ননতাবুরি স্কুলে’ এ ঘটনার পর আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের স্কুল ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। অনেক শিক্ষক একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সোশাল মিডিয়ায় আসা ছবিতে দেখা যায়, একজন আহতকে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে শুইয়ে রাখা হয়েছে। আরেকজনকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসাকর্মী।
এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার কথা বলেছেন থাইল্যান্ড পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ত্রিরং ফোফান।
ননতাবুরির প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান দেচরাপি কংডি জানান, হামলাকারী বন্দুকধারী ছিল নবম শ্রেণির ছাত্র। থাইল্যান্ডে এই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বয়স ১৪ বছরের কাছাকাছি হয়ে থাকে।
থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাত্তানা প্রমফাত জানান, স্কুলে হামলা করার আগে ওই শিক্ষার্থী
বাড়িতে নিজের দাদা ও দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। পরে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
হামলায় ব্যবহৃত নাইন মিলিমিটার বোরের পিস্তলটি ছিল তার দাদার, তিনি পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন।
এরপর স্কুলে হামলার ঘটনায় যে পাঁচজন মারা গেছেন, তারাও সবাই শিক্ষক বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্কুলে হামলা চলাকালে থাই পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে এক জরুরি বার্তায় বলা হয়, “ভবনের ভেতরে যারা আটকে আছেন, সবাই নিরাপদে লুকিয়ে থাকুন, দরজা-জানালা শক্ত করে বন্ধ করুন এবং উদ্ধারকারী দল না পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”
পরে পুলিশ সতর্ক করে জানায়, হামলাকারী স্কুলের কম্পিউটার রুমে অবস্থান করছে।
১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে বলেন, প্রথমে তিনি গুলির শব্দকে আতশবাজির শব্দ বা কোনো কিছুতে জোরে ধাক্কা দেওয়ার আওয়াজ বলে মনে করেছিলেন।
“প্রথমে আমি ভাবিনি এটা বন্দুকের গুলি। টানা অনেকগুলো শব্দ হল–ব্যাং, ব্যাং, ব্যাং। কিছুক্ষণ থেমে আবার শুরু হল।”
ভয়াবহ এই ঘটনার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।
তিনি বলেছেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক, এমন ঘটনা কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। আমাদের দেশে কীভাবে এটা ঘটল! এ কারণেই সরকার সাধারণ নাগরিকদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা অনুমোদন করে না।”
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে সাধারণ মানুষের কাছে অস্ত্রের মালিকানা তুলনামূলক বেশি হলেও দেশটিতে অস্ত্র আইন বেশ কঠোর। অবৈধ অস্ত্র বহনের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তার পরও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ব্যাংককের একটি ফুড মার্কেটে গুলিতে ৫ জন নিহত হন।
এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের স্কুলে ঢুকে গুলি চালালে এক শিক্ষক ও এক ছাত্রী গুলিবিদ্ধ হন, যার মধ্যে শিক্ষক পরদিন হাসপাতালে মারা যান।
দেবসিরিন স্কুল থাইল্যান্ডের অত্যন্ত নামকরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সারা দেশে যার শাখা রয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, ১৮৮৫ সালে থাই রাজা চুলালংকরন এর মূল শাখাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশের বহু শীর্ষ কূটনীতিক, অ্যাথলেট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীরা এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।