Published : 08 Oct 2025, 09:44 PM
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে ঢোকা ও বেরোনোর পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে। আগামী রোববার থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন বায়োমেট্রিক সীমান্ত চেকিং ব্যবস্থা।
এর ফলে অস্ট্রেলীয় ও ব্রিটিশরাসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর নাগরিকদের ইইউ অঞ্চলে যাতায়াতের নিয়ম বদলে যাবে।
নতুন এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম (ইইএস) অনুযায়ী, প্রথমবার ইইউভুক্ত (শেনজেন অঞ্চল) ২৯টি দেশে প্রবেশ করার সময় অ-ইইউ ভ্রমণকারীদেরকে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন- আঙুলের ছাপ ও মুখাবয়বের ছবি নিবন্ধন করতে হবে।
শেনজেন অঞ্চলে কেবল আয়ারল্যান্ড ও সাইপ্রাস বাদে সব ইউরোপীয় দেশই আছে এবং এর সঙ্গে আরও আছে আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন।
সীমান্ত ক্রসিংগুলোতে পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে এবং আগামী বছর ১০ এপ্রিলের মধ্যে এটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি না হওয়ার নিশ্চয়তা পাবে ইইউ।
কেন এই পরিবর্তন?
নতুন এই ইলেকট্রনিক সিস্টেম চালু হলে ইইউ সীমান্তে হাতে হাতে পাসপোর্ট স্টাম্প করার প্রয়োজনীয়তা আর থাকবে না। এর পরিবর্তে ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি হবে, যেখানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ভ্রমণকারীদের পরিচয়ের সঙ্গে ভ্রমণ নথি সংযুক্ত করা হবে।
ইইউ চায় তাদের বাইরের সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে, অবৈধ অভিবাসন রোধ করতে, পরিচয় জালিয়াতি ঠেকাতে এবং যারা কোনও ইইউ দেশে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করে তাদের শনাক্ত করতে।
নতুন ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণ করা হবে যে, ভিসা ছাড়া ইইউ দেশগুলোতে ভ্রমণকারীরা ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন থাকার নিয়ম মেনে চলছেন কি না।
কী ঘটবে?
শেনজেন অঞ্চলে প্রথমবার প্রবেশ করা যে কাউকে তার পাসপোর্ট স্ক্যান করতে হবে, আঙুলের ছাপ নিবন্ধন করতে হবে এবং মুখাবয়বের স্ক্যান দিতে হবে।
ভ্রমণ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ভ্রমণকারীদের তথ্য ইইএস ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে, যাতে নিশ্চিত করা যায় তারা নির্ধারিত সময় অবস্থানের নিয়ম মেনে চলেছেন এবং প্রস্থান নিবন্ধন করা হয়েছে।
পরবর্তীবারের ভ্রমণে কেবল মুখাবয়বের বায়োমেট্রিক যাচাইকরণের প্রয়োজন পড়বে। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইইএস-এর অধীনে নিবন্ধন করতে হবে। তবে তাদের কেবল ছবি তোলা হবে। ভ্রমণকারীদেরকে ইইএস-এর জন্য কোনও ফি দিতে হবে না।
চেকিং বা পরীক্ষা কোথায় হবে?
শেনজেন অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বন্দর, ট্রেন টার্মিনাল ও সড়ক সীমান্ত ক্রসিংগুলোতে চেকিং হবে।
তবে ডোভার বন্দর, ফোকস্টোনের ইউরোটানেল টার্মিনাল ও লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাসের ইউরোস্টার টার্মিনালে ইইএস নিবন্ধন দরকার পড়বে যুক্তরাজ্য থেকে বেরোনোর সময়। এই চেকিংয়ের তদারকি করবেন ফ্রান্সের সীমান্ত কর্মকর্তারা।
ভ্রমণকারীরা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তারা আবার বেরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত এই চেকিং আর করার দরকার হবে না।