২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের দাবি ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত কিম

নিষেধাজ্ঞা ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতপার্থক্যে ছয় বছর আগে পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল।

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের দাবি ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত কিম
পিয়ংইয়ংয়ে সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন কিম জং উন। ছবি: কেসিএনএ/রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Sep 2025, 03:15 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:20 PM

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার দেশকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগে জোরাজুরি বন্ধ করে তাহলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত।  

তবে নিষেধাজ্ঞা তুলতে উত্তর কোরিয়া কখনোই তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার পরিত্যাগ করবে না, কিম এসব বলেছেন বলে সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে। 

“ব্যক্তিগতভাবে, আমার এখনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট (ডনাল্ড) ট্রাম্পের সঙ্গে মধুর স্মৃতি রয়েছে,” রোববার সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া ভাষণে উত্তর কোরীয় নেতা এ কথা বলেন। 

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দুই নেতার মধ্যে তিনবার বৈঠক হয়েছিল। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, কিম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বসার ক্ষেত্রে এমন সময়ে শর্ত দিলেন যখন দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন উদারপন্থি সরকার ট্রাম্পকে কিমের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর লাগাম হাতে নিতে বলছে। নিষেধাজ্ঞা ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতপার্থক্যে ছয় বছর আগে পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। 

“যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ নিয়ে তার অযৌক্তিক আকাঙ্ক্ষা বাদ দেয় ও বাস্তবতা মেনে নেয় এবং সত্যিকারের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়, তাহলে তাদের সঙ্গে না বসার কোনো কারণ নেই,” বলেছেন কিম।

জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শপথ নেওয়ার পর এবারই প্রথম কিমের মুখ থেকে তার নাম শোনা গেল, বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ র‌্যাচেল মিনইয়ং লি।   

“এটা আমন্ত্রণ। ট্রাম্পকে কিমের আমন্ত্রণ, যেন তিনি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পুনর্বিবেচনা করেন। এর তাৎপর্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের দাবি ছেড়ে দেয় তাহলে তিনি (কিম) ট্রাম্পর সঙ্গে মুখোমুখি বসতে পারেন,” বলেছেন লি।

ট্রাম্পকে নিয়ে কিমের এমন উষ্ণ কথাবার্তার পুরো বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া প্রসঙ্গে। 

পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ না করার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা বলছেন, তিনি ‘প্রধান শত্রু’ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও কোনো ধরনের আলোচনায় যাবেন না।   

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার ভয়াবহ হুমকির মুখে উত্তর কোরিয়ার টিকে থাকার জন্য, নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখার জন্যই পরমাণু অস্ত্র বানাতে হচ্ছে, বলেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাদের মিত্রদের একের পর এক ধারাবাহিক সামরিক মহড়ার তালিকা দিয়ে কিম বলেন, এগুলো পারমাণবিক যুদ্ধের মহড়ায় পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া বছরে ১৫-২০টি পরমাণু বোমা বানাচ্ছে। এই বোমা বানানো বন্ধে যে কোনো চুক্তিই পরবর্তীতে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পথে কার্যকর পদক্ষেপ হবে।

“এর উপর ভিত্তি করে আমরা পরমাণু অস্ত্র হ্রাসের জন্য মধ্যম-মেয়াদের আলোচনায় এগোতে পারি, আর দীর্ঘমেয়াদে, একবার পারস্পরিক বিশ্বাস পুনঃস্থাপিত হলে এবং উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ কমলে, আমরা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এগিয়ে নিতে পারি,” বলেছেন তিনি।

ধাপে ধাপে পরমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের এমন প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়েছেন কিম। বলেছেন, সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও সিউল আলোচনার যেসব প্রস্তাব দিচ্ছে সেগুলো ভণিতা, তারা এখনও যে উত্তর কোরিয়াকে দুর্বল করা ও এর শাসনব্যবস্থা ধ্বংসের মূল পরিকল্পনায় অটল রয়েছে লি-র ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনাই তার প্রমাণ। 

“একটি দেশ পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করে নিরস্ত্র হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কী কী করে তা বিশ্ব ভালো করেই জানে। আমরা কখনোই আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবো না,” বলেছেন কিম।