Published : 31 Aug 2026, 06:53 PM
নেপালে গত বুধবারের আকস্মিক বিদ্ধংসী বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও ত্রিশূলী নদীসংলগ্ন এলাকায় অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি সবুজ রঙের বাড়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বন্যার তোড়ে আশেপাশের ভবনগুলো ভেসে বা ভেঙে যাওয়ার পরেও কীভাবে এই বাড়িটি অক্ষত টিকে থাকল, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সবার মধ্যে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে আর্কিটেকচার ও নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করে এমন অ্যাকাউন্ট, ‘আর্কিটেকচার প্রেজেন্টেশন’ বাড়িটির নির্মাণশৈলী, অবস্থান এবং সুসংহত জ্যামিতিক গঠনের দিকে ইঙ্গিত করে এর একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, প্রবল বন্যার মধ্যেও বাড়িটির টিকে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ এর রিইনফোর্সড কংক্রিট ফ্রেম।
পাশাপাশি বাড়িটির কলাম, বিম এবং ভিত্তিকে ইস্পাতের রড দিয়ে যুক্ত করে একটি দৃঢ় কাঠামোগত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এটিই হয়ত প্রবল বন্যার শক্তি প্রতিরোধ করতে বাড়িটিকে সাহায্য করেছিল।
তাছাড়া বাড়িটির অবস্থানেরও ভূমিকা থাকতে পারে। কারণ ধ্বংসাবশেষ প্রবাহের সবচেয়ে ভারী পাথরগুলো সাধারণত স্রোতের গভীরতম অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বাড়িটি সেই প্রধান পথ থেকে কিছুটা দূরে এবং সামান্য উঁচু জমিতে অবস্থিত। ফলে পানি ভাগ হয়ে ভবনটির দুই পাশ দিয়ে প্রবাহিত হতে পেরেছিল।
ভারতের সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আর্কিটেকচার প্রেজেন্টেশন’ এর এই ব্যাখ্যা কোনো নিশ্চিত প্রকৌশলগত বিশ্লেষণ নয় বরং একটি মূল্যায়ন মাত্র।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, বুধবারের প্রবল বন্যা ও হড়পা বানের সময় সবুজ রঙের ভবনটির চারপাশ দিয়ে কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত বয়ে যাচ্ছে। এ সময় বাড়িটির দোতলায় একটি পরিবার আটকা পড়ে। বিবিসি ও এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, পরে শিশুসহ ৩ সদস্যের পরিবারটিকে উদ্ধারকারীরা নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
বিবিসির তথ্যানুযায়ী, নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে গত বুধবার আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯০৩ জনের দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ২৫০০ এর বেশি মানুষ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুর্যোগের সময় ওই সবুজ রঙ করা দোতলা বাড়িটির টিকে যাওয়া নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক এরিক চেন ওই ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দেখা সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের একটি এটি। চারপাশের সবকিছু নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া প্রবল স্রোতের মধ্যেও একটি বাড়ি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।”