Published : 04 Dec 2025, 05:24 PM
জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে সংঘাতের বাইরে রাখতে রাশিয়া, ইউক্রেইনসহ সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তুরস্ক বলেছে, তারা চায় জ্বালানি সরবরাহ কোনো ধরনের ব্যাঘাত ছাড়াই অব্যাহত থাকুক।
তুরস্কের কৃষ্ণসাগর উপকূলে একের পর এক হামলার পর দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আলপারস্লান বায়রাকতার এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ স্থাপনায় মস্কোর বোমাবর্ষণের পাল্টায় রাশিয়ার তেল রপ্তানিকে নিশানা বানানো কিইভ কয়েকদিন আগে এক রুশ বন্দরের দিকে যাওয়া দুটি খালি ট্যাংকারে হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেছে।
তবে তারা মঙ্গলবার সূর্যমুখী তেলবোঝাই অন্য একটি রুশপতাকাবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশ থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
“আশা করছি, এই ভয়ঙ্কর যুদ্ধ শেষ হবে। কিন্তু আজ যেখানে অবস্থান করছে, সেখানেও আমরা রাশিয়া, ইউক্রেইনসহ সব পক্ষকে বলেছি, জ্বালানি সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোগুলোকে যেন এই যুদ্ধের বাইরে রাখে। জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন রাখতে হবে,” বুধবার সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন বায়রাকতার।
সেদিনই নেটোর এক বৈঠকে আঙ্কারা তুরস্কের কাছে রাশিয়া সংশ্লিষ্ট নৌযানে হামলার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেছে। যুদ্ধের মধ্যে মস্কো, কিইভ উভয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা এ নেটো সদস্য দেশটি নৌযানে হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেইন উভয়কে এ ব্যাপারে সতর্কও করেছে।
সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, রুশ ট্যাংকার ও পাইপলাইনে কিইভের হামলা অব্যাহত থাকলে ইউক্রেইনের সমুদ্রে নামার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং কিইভের বিভিন্ন স্থাপনা ও নৌযানে তীব্র হামলা চালানো হবে।
তুরস্কের কাছে ট্যাংকারে হামলায় কৃষ্ণসাগরে জাহাজ চলাচলে বিমার হার বেড়ে গেছে। সেনেগালের কাছে একটি নৌযান বাহ্যিক আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তুরস্কের একটি কোম্পানি তাদের রাশিয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রেখেছে।
ইউক্রেইনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরের কাছে কৃষ্ণসাগর টার্মিনালে একটি নোঙর করার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর শনিবার কাজাখস্তানের তেল রপ্তানির ৮০% ও বৈশ্বির সরবরাহের ১ শতাংশের বেশি যে পাইপলাইন দিয়ে যায়, সেই সিপিসি পাইপলাইন খানিকক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এ খাত সংশ্লিষ্ট ৫টি সূত্র জানিয়েছে, কাজাখস্তান ডিসেম্বরে বাকু-তিবলিসি-জেহান (বিটিসি) পাইপলাইন দিয়ে আরও বেশি অপরিশোধিত তেল পাঠাবে।
গত মাসে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আঙ্কারা সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
“ওই কক্ষে জেলেনস্কির সঙ্গে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে তারা ইউক্রেইনে গ্যাস সরবরাহে সহায়তার অনুরোধও করেছে,” বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্বন্ধে জানতে চাওয়ার পর বলেন বায়রাকতার।
গ্রিসের সঙ্গেও ইউক্রেইনের এ ধরনের চুক্তি আছে; আঙ্কারা কীভাবে কিইভকে সাহায্য করতে পারে তা বের করতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি বোটাস ও ইউক্রেইনের নাফতোগ্যাজ কাজ করছে, বলেছেন তিনি।
তুর্কি এ মন্ত্রী বিস্তারিত কিছু না বলেই জানান, ভূগর্ভস্থে মজুত করে রাখার ‘ব্যাপক সক্ষমতা’ রয়েছে ইউক্রেইনের। এর অর্থ, গ্রীষ্মকালে সস্তায় জ্বালানি কিনে তা তারা শীতের জন্য মজুত করে রাখতে পারে।