Published : 25 Jun 2026, 02:04 PM
ব্রাজিলের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সে ভীষণ বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ স্টিভ ক্লার্ক। স্কটল্যান্ড কোচের মতে, পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ম্যাচটি উপহার দিয়েছে তার দল। বিশ্বকাপে পরের ধাপে নিজেদের ওঠার কোনো সম্ভাবনাই দেখেন না তিনি। স্কটিশ তারকা মিডফিল্ডার জন ম্যাকগিনেরও ভাবনা একই।
শেষ গ্রুপ ম্যাচে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে স্কটল্যান্ড। জোড়া গোল করেছেন ভিনিসিউস জুনিয়র, অন্যটি মাতেউস কুইয়া।
ম্যাচের শুরুতেই মারাত্মক ভুল করে বসেন স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনা। গোলরক্ষক থেকে পাস বক্সে পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তার শটে বল ব্রাজিলের হায়ানের পায়ে লেগে বক্সেই ফাঁকায় পান ভিনিসিউস। এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
২২তম মিনিটে আরেকটি ভুল করে স্কটিশরা, এবারও বল জালে পাঠান ভিনিসিউস। তবে ভিএআর মনিটরে দেখে গোল দেননি রেফারি। স্কটল্যান্ডের জ্যাক হেনড্রির থেকে বল কেড়ে নেওয়ার সময় তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিলেন ভিনিসিউস, ফাউল।
স্কটল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় গোলটিও হজম করে কিছুটা গোলরক্ষকের ভুলে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের ক্রস এগিয়ে গিয়ে লাফিয়ে ক্লিয়ারের চেষ্টায় ব্যর্থ হন তিনি। দূরের পোস্টে হেডে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিউস। ৬০তম মিনিটে স্কোর ৩-০ করেন কুইয়া।
ম্যাচ শেষে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ক্লার্ক। তার মতে, বিশ্ব মঞ্চে এমন সব ভুল অগ্রহণযোগ্য।
“আমরাই নিজেদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছি, ব্যস এইটুকুই। গোলগুলো আমরাই তাদের উপহার দিয়েছি, তারা যেমন ম্যাচ চেয়েছিল তেমনই দিয়েছি। ভীষণ হতাশাজনক।”
“প্রথম চার-পাঁচ মিনিট আমরা ভালোই পাসিং খেলছিলাম, কিন্তু এরপরই একটা ভুল করে বসি। এই পর্যায়ের ফুটবলে আপনি এমন ভুল করতে পারেন না; কারণ এটা আপনাকে চাপে ফেলে দেয় এবং পুরো ম্যাচটাই তখন এক দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হয়।”
গ্রুপ সেরা হয়ে ব্রাজিল ও রানার্সআপ হয়ে মরক্কোর পরের ধাপে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপের তৃতীয় সেরা আটটি দলও সুযোগ পাবে শেষ বত্রিশে খেলার। তাই কিছুটা সম্ভাবনা এখনও বেঁচে আছে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থাকা স্কটল্যান্ডের। তবে এর জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হবে গ্রুপ পর্বের সব খেলা শেষ হওয়ার পর্যন্ত।
নকআউট খেলার আশা করছেন কিনা ক্লার্ক, এমনটা জানতে চাওয়া হলে বিবিসিকে স্কটল্যান্ড কোচ বলেন, “আমার মনে হয়, নিশ্চিতভাবেই আমরা বাড়ি ফিরছি।”
নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন ম্যাকগিনও। পরের ধাপে খেলার খুব বেশি সম্ভাবনা দেখেন না তিনিও।
“এমন একটি দলের বিপক্ষে আমরা বাজে সময়ে খুবই সহজ গোল হজম করেছি, যারা তাদের মান দিয়ে আপনাকে শাস্তি দিতে পারে। আমরাও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু এখন অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। ছেলেরা ভেঙে পড়েছে। মানের দিক থেকে আমাদের কিছুটা ঘাটতি ছিল, তবে আমরা সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়েছিল। ছেলেরা এখন পরিশ্রান্ত। পরের ধাপে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে অপেক্ষা করি, দেখি কী হয়।”
এখন পর্যন্ত তাদের সমর্থন দিয়ে যাওয়া দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ম্যাকগিন।
“এই মুহূর্তে অনুভূতিটা খুবই কষ্টের। তবে সমর্থকদের এই দুর্দান্ত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ। জানি, তাদের জন্যও ওই মুহূর্তটা কতটা কঠিন ছিল। আশা করি, আমাদের এই যাত্রা এখানেই শেষ নয়। যদি আমাদের আবার মাঠে নামতে হয়, আমরা নতুন করে লড়াই শুরু করব।”