১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি মোকাবেলায় ওপেকের সহায়তা চায় ভেনেজুয়েলা

ওপেকভুক্ত দেশগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার দেশের বিশাল তেল সম্পদ “কব্জা” করতে চাইছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি মোকাবেলায় ওপেকের সহায়তা চায় ভেনেজুয়েলা
নিকোলাস মাদুরো। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Dec 2025, 12:13 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:14 PM

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাড়তে থাকা অবৈধ হুমকি মোকাবেলায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট (ওপেক)-এর সহায়তা চেয়েছেন।

রোববার ওপেকভুক্ত দেশগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে মাদুরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ “কব্জা” করতে চাইছে। 

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টেলেসুর প্রকাশিত চিঠিতে তিনি বলেন, “এই আগ্রাসন থামাতে আপনাদের সর্বোত্তম প্রচেষ্টার ওপর আমি ভরসা করছি। এই হুমকি দিন দিনই বাড়ছে এবং উৎপাদক ও ভোক্তা, উভয় দেশের জন্যই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে।” 

চিঠিতে মাদুরো ওপেক এবং বৃহত্তর জোট ওপেক প্লাসের উদ্দেশে তার দেশের ভূখণ্ড, জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে “প্রাণঘাতী সামরিক শক্তি ব্যবহারের” বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করেন। 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত থাকার পরও ভেনেজুয়েলার ২০২৩ সালে অপরিশোধিত তেল রপাতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪০৫ কোটি ডলার। তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্পের প্রথমবারের ক্ষমতাকালে আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাই এই পতনের কারণ। 

ইরান, ইরাক, কুয়েত ও সৌদি আরবের সঙ্গে ১৯৬০ সালে ওপেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল লাতিন আমেরিকার দেশটি। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক তেলের দামে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।

ওপেকের কাছে লেখা মাদুরোর চিঠি আসে একদিন পর, যখন ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার উপরের এবং আশপাশের আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণরূপে বন্ধ’ বলে বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু আর বিস্তরিত কিছু তিনি জানাননি।

মাদুরো সরকারের ওপর মার্কিন প্রশাসনের ক্রমাগত চাপ বাড়তে থাকার মধ্যে ট্রাম্পের এ মন্তব্যে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।

তার আকাশসীমা মন্তব্যের অর্থ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে হামলা আসন্ন কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “এর মধ্যে অন্য কোনও কিছু খুঁজবেন না।” কারাকাস এ মন্তব্যকে “ঔপনিবেশিক হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মাদুরো সরকার কয়েক মাস ধরে বলে আসছে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল ও গ্যাস সম্পদের দিকে পৌঁছানো।

ওদিকে, হোয়াইট হাউজ দাবি করেছে, তারা মাদকচক্র দমনের লক্ষ্যেই অভিযান চালাচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, ওয়াশিংটনের নিজস্ব তথ্যই দেখায়, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো মাদকের প্রধান উৎস ভেনেজুয়েলা নয়।