Published : 31 Oct 2025, 03:11 AM
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আনা পলিনা লুনা এক বিস্ফোরক দাবি নিয়ে সামনে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দ্বৈত নাগরিকদের সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন তিনি।
লুনার বক্তব্য সরল। তবে বিস্ফোরক। কারণ, তার এই দাবির মুখে অনেক কংগ্রেস সদস্যই পদ খোয়ানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
লুনার কথায়—যদি কারও বিদেশি নাগরিকত্ব থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। এটি কেবল যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় নয়; যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্পূর্ণ, একনিষ্ঠ আনুগত্যের বিষয়।
লুনার মতে, দেশের ভবিষ্যৎ আইনের রূপকার হতে এমন একনিষ্ঠ অনুগতদেরই ক্ষমতায় থাকা উচিত। অর্থাৎ, কংগ্রেসে তাদেরই আসতে দেওয়া উচিত যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
এখন প্রশ্ন এটি নয় যে, লুনার এই দাবিতে ওয়াশিংটনে পরিবর্তন আসবে কিনা, বরং কে-কে গোপনে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন? প্রভাবশালী কোন কোন আইনপ্রণেতার গুমর ফাঁস হওয়ার মুখে? কোন বিদেশি সরকার তাদের ঝুঁকিতে থাকা সম্পদ নিয়ে আতঙ্কিত? সেটিই প্রশ্ন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে যারা অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন তাদের নামের তালিকা ইতিমধ্যেই ঘুরছে। বিষয়টি সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
লুনার সমর্থকরা তার দাবিকে সেই মূল নীতি ‘আমেরিকা সর্বাগ্রে’তে ফিরে যাওয়ার মূহূর্ত হিসাবেই দেখছেন, যেখানে জনসেবার শেকড় পোঁতা থাকা উচিত এক পতাকা, এক শপথ এবং এক দেশের প্রতি পূর্ণ ভক্তিশ্রদ্ধার মধ্যে।
তবে সমালোচকরা- যাদের বেশিরভাগই বামপন্থি এবং লুনার নিজ দলের কিছু মধ্যপন্থি সদস্য- তারা বিভক্ত সেনেটে লুনার প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
কিছু আইন বিশ্লেষক এও যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কংগ্রেসে সমান প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন খাড়া করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় বিদেশি প্রভাব নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতে থাকার মধ্যে লুনা তার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন।
অন্য দেশের সঙ্গে মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং কর্মকর্তাদের অর্থনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষা করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে।
লুনার কথায়, আমেরিকানদের এমন একটি সরকারই পাওয়া উচিত যারা কেবলমাত্র নিজ দেশের স্বার্থের জন্যই নিবেদিতপ্রাণ থাকবে, অন্য কোনও দেশের স্বার্থ বা তাদের প্রতি আনুগত্য যেন এর মধ্যে এসে না পড়ে।
আনা পলিনা লুনা রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হিসেবে ফ্লোরিডা থেকে কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মেক্সিকান-আমেরিকান নারী। ২০২৩ সাল থেকে তিনি ফ্লোরিডার ১৩তম কংগ্রেসনাল এলাকার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।