Published : 25 Sep 2025, 06:43 PM
ভারতে লাদাখের রাজধানী লেহ শহরে বুধবার আলাদা রাজ্যের স্বীকৃতির দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সহিংসতায় অন্তত চারজনের প্রাণহানির পর কারগিলে শুরু হয়েছে পূর্ণ শাটডাউন ।
লাদাখের বিক্ষোভে পুলিশের গুলির প্রতিবাদে এবং লাদাখের মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (কেডিএ) ডাকে বৃহস্পতিবার এই শাটডাউন (সম্পূর্ণ বন্ধ) কর্মসূচি চলছে।
বাজার, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক সব বন্ধ রয়েছে। ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনও সম্পূর্ণভাবে থমকে গেছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে।
কার্গিল প্রশাসন এরই মধ্যে পাঁচ জনের বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, কার্গিলে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর। তবে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওদিকে, লাদাখে ব্যাপক বিক্ষোভের এক দিন পর বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত দেখা গেছে।
ভারতে লাদাখকে আলাদা রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতাভুক্ত করে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে বুধবার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।
এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত ও আরও অনেকে আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জারি হয় কারফিউ।
বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে লাদাখে আর কোনও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। তবে লেহতে এলাকাজুড়ে চারজনের বেশি মানুষ জড়ো হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। পুলিশ রাস্তায় টহল দিচ্ছে।
রাজ্যের মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে লাদাখের লেহতে আন্দোলন করছে লেহ এপেক্স বডি (এলএবি)। ওদিকে, কারগিলেও একই দাবিতে আন্দোলন করছে কারগিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ)।
কেডিএ নেতা সাজাদ কারগিলি বলেন, “কারগিলে কমপ্লিট শাটডাউন চলছে। লাদাখের লেহতে হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে এবং সেখানকার মানুষের সঙ্গে সংহতি জানাতেই এ কর্মসূচি ডাকা হয়েছে।”
এক ভিডিও বার্তায় তিনি মানুষকে ঘরে থাকা এবং কোনওরকম সহিংসতা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “লাদাখে সহিংসতার কোনও স্থান নেই। শাটডাউন পালন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং পাঁচজনের জীবনহানির (কর্মকর্তারা বলছেন চারজন) প্রতিবাদও।”
“আমরা কখনও সহিংসতাকে সমর্থন করিনা। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সংলাপের মাধ্যমে আমাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে চাই,” বলেন সাজাদ।
ভারতের কেন্দ্র সরকারের শাসনের বিরুদ্ধে গত তিনবছর ধরেই অসন্তোষ বেড়েছে লাদাখে। ২০১৯ সালে ৫ অগাস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল পাশ করা হয়। এর মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে লাদাখকে আলাদা করা হয়েছিল।
জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল করা হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরকে শিগগিরই রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
কিন্ত তাতে দেরি হচ্ছে দাবি করে নতুন করে অনশন শুরু করেন বিক্ষোভ-আন্দোলনের অন্যতম মুখ পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বুধবার লাদাখে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ডাক দেয় লেহ অ্যাপেক্স বডি’র যুব শাখা।
এ শাখার চেয়ারম্যান থুপস্তান সোয়াং বলেন, ‘‘লাদাখে মূলত চারটি দাবিতে আমরা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছি।
“কিছু ঘটনা ঘটেছে, যার কারণ বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। এতে আমাদের কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা লাদাখের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, মৃতদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।” ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলন করবেন বলেও জানান সোয়াং।