Published : 21 Nov 2025, 02:27 PM
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি খসড়া শান্তি পরিকল্পনা পাওয়ার পর ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সৎভাবে কাজ করতে’ তিনি প্রস্তুত।
ওই খসড়া পরিকল্পনার আওতায় দনবাস অঞ্চলের যেসব এলাকা এখনও ইউক্রেইনের দখলে আছে কিইভকে সেগুলো ছেড়ে দিতে হবে, সেনাবাহিনীর আকার ছোট করে ফেলতে হবে এবং নেটোতে যুক্ত না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে বলে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এই খসড়া পরিকল্পনা বানানোর ক্ষেত্রে ইউক্রেইনের সংশ্লিষ্টতা কতখানি তা স্পষ্ট নয়। যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের সঙ্গেই ‘সমান যোগাযোগ রেখেছে’।
পৃথক এক বিবৃতিতে জেলেনস্কির কার্যালয় বলেছে, তারা যুদ্ধের ন্যায়সঙ্গত অবসানের লক্ষ্যে পরিকল্পনার বিভিন্ন ধারাগুলো নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
২৮ দফার খসড়া ওই পরিকল্পনার পুরোটা ছেপেছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও এক্সিওস। এতে ইউক্রেইনের সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৬ লাখের মধ্যে রাখতে বলা হয়েছে, পাশাপাশি ইউক্রেইনকে তার কাছে থাকা অত্যাধুনিক অনেক সমরাস্ত্রও ত্যাগ করতে হবে, তবে তাদের সহায়তায় পোল্যান্ডে ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকবে।
পরিকল্পনায় কিইভকে ‘নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ দেওয়ার অঙ্গীকার করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
এসবের বিনিময়ে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে এবং তাদেরকে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি৭-এ নিয়ে ‘বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফের যুক্ত করা হবে’। রাশিয়া যুক্ত হলে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোটটি পুনরায় জি-৮ হিসেবে আবির্ভূত হবে।
ইউক্রেইনকে পাঠানো পরিকল্পনায় যদি এসবই থাকে তবে মোটাদাগে এতে মস্কোর স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, বলছে রয়টার্স।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আসছে দিনগুলোতে তিনি এসব প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন।
হোয়াইট হাউসে সংবাদ ব্রিফিংয়ে লেভিট বলেছেন, তিনি মনে করেন না এই পরিকল্পনায় ইউক্রেইনকে ‘বেশি ছাড়’ দিতে বলা হয়েছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছেন।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মাসখানেক ধরে নীরবে এসব প্রস্তাব নিয়ে কাজ করেছেন; দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কে কী অঙ্গীকার করছে তা বুঝতে তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন, বলেছেন লেভিট।
“এটা রাশিয়া, ইউক্রেইন উভয়ের জন্যই চমৎকার পরিকল্পনা। দুই পক্ষের কাছেই এটি গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এটি চূড়ান্ত করতে আমরা ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছি,” বলেছেন তিনি।
অনামা এক মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, জেলেনস্কি প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রুস্তম উমেরভের সঙ্গে আলোচনার পরই এ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। কিছু জায়গায় অদল বদল আনার পর উমেরভ এ পরিকল্পনার সিংহভাগ অংশে সম্মত হয়েছেন এবং তা জেলেনস্কির কাছে উপস্থাপন করেছেন।
“যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে মার্কিনিরা তাদের পরিকল্পনার কিছু দফা উপস্থাপন করেছে—তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। আমি আমাদের মূল নীতিগুলো তুলে ধরেছি। আমাদের বিভিন্ন দল দফাগুলো নিয়ে কাজ করবে, যাতে সবকিছু সত্যিকারের হয়,” এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছেন জেলেনস্কি।
বৃহস্পতিবার কিইভে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর তার এ বিবৃতি আসে।
পরে রাতের ভাষণে ইউক্রেইনের এ প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেইনের ‘ন্যায়সঙ্গত শান্তি’ দরকার এবং তাতে ‘ইউক্রেইনের জনগণের মর্যাদাকে’ অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে।
এই পরিকল্পনার খসড়া তৈরিতে ইউরোপ যুক্ত ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, “যতটুকু জানি- ছিল না।”
“কোনো পরিকল্পনা কার্যকর হতে হলে ইউরোপীয় ও ইউক্রেইনীয়দের অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে,” বলেছেন তিনি।
এদিকে মস্কোও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ‘যোগাযোগ’ থাকলেও তাকে কোনোভাবেই ‘আলোচনা’ বলা যায় না।
কোনো শান্তি চুক্তি হলে তাতে অবশ্যই ‘সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধানের’ বিষয়ও থাকতে হবে।
রাশিয়ার এ বক্তব্যের মানে হচ্ছে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর সময় তাদের যেসব দাবিদাওয়া দিয়েছিল, তা থেকে তারা একবিন্দুও ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। ওই সব শর্ত পূরণকে ইউক্রেইন ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবেই দেখছে।