Published : 05 Mar 2025, 04:01 PM
সার্বিয়ার বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন ও সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পার্লামেন্টের ভেতরে স্মোক গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছেন বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা। পাশাপাশি পেপার স্প্রে ব্যবহারও করেছেন তারা।
মঙ্গলবারের এ ঘটনায় পার্লামেন্টের ভেতরে বিশৃঙ্খলা শুরু হলে এক আইনপ্রণেতা স্টোকে আক্রান্ত হন। আরও তিন আইনপ্রণেতা আহত হয়েছেন বলে স্পিকার আনা ব্রুনাবিক জানিয়েছেন। স্টোকে আক্রান্ত এসএনএস পার্টির আইনপ্রণেতা ইয়াসমিনা ওব্রাদোবিচকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জ্লাতিবর উঅনসার জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওব্রাদোবিচ গুরুতর অবস্থা্য় আছেন।
গত বছরের নভেম্বর মাসে সার্বিয়ার নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের প্রবেশপথের কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এই নিয়ে চার মাস আগে দেশটির শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভে শিক্ষক, কৃষক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষে যোগ দেওয়ায় তা দেশটির দীর্ঘ দিনের প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিকের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
দেশটির বহু মানুষ ব্যাপক দুর্নীতি ও সরকারের অযোগ্যতার নিন্দা জানাচ্ছেন।
রয়টার্স জানায়, আইনসভার অধিবেশনে সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট তাদের আনা প্রস্তাব অনুমোদন করার পর হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। বিরোধীদলের কিছু সদস্য তাদের আসান থেকে উঠে স্পিকারের দিকে দৌঁড়ে যায়, নিরাপত্তা রক্ষীরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গে ধস্তাধ্বস্তি শুরু করে তারা।
বিরোধীদলের অন্য সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে গ্রেনেড ছুড়ে মারেন এবং পেপার স্প্রে ব্যবহার করেন। টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারে অধিবেশন কক্ষের ভেতরে কালো ও গোলাপী ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
১৯৯০ সালে সার্বিয়ায় বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু হওয়ার পর থেকে পার্লামেন্টে এ ধরনের হাঙ্গামার ঘটনা আগেও ঘটেছে।
ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ভুচিক ঘটনাটিকে ‘গুন্ডামি’ বলে বর্ণনা করেছেন। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সার্বিয়ার আইন অনুযায়ী, পার্লামেন্টের সদস্যরা তদন্তের মুখোমুখি হওয়া থেকে ছাড় পেয়ে থাকেন, কিন্তু গুরুতর অপরাধ করলে এই অধিকার হারান।
এসব ঘটনার পরও পার্লামেন্ট অধিবেশন চলছিল। ক্ষমতাসীন জোটের সদস্যরা বিতর্ক করার সময় বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা শিষ দিয়ে ও বাঁশি বাজিয়ে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।