গাজার খান ইউনিস নগরীকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা

খান ইউনিসের গুটিকয়েক হাসপাতালের স্টাফ,রোগী এবং বাস্তুচ্যুত মানুষ ভেতরে আটকা পড়ে আছে। তারা আতঙ্কিত- বলছে জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা।

রয়টার্স
Published : 23 Jan 2024, 03:49 PM
Updated : 23 Jan 2024, 03:49 PM

গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে ইসরায়েল সোমবার ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক সেনার মৃত্যু দেখার পর খান ইউনিস নগরীকে ঘিরে ফেলে বাদবাকী অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এতে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনি অধিবাসীরা আটকা পড়েছে।

জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) প্রধান বলেছেন,খান ইউনিসের গুটিকয়েক হাসপাতালের স্টাফ,রোগী এবং বাস্তুচ্যুত মানুষ সবাই ভেতরে আটকা পড়ে আছে। তারা আতঙ্কিত।

ভিডিওতে দেখা গেছে নাসের হাসপাতালের উপরিভাগে গুলি গিয়ে লাগছে। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। চারিদিকে কেবল লাশের গন্ধ।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, আগের দিন ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এর সেনারা অভিযান চালানোর সময় খান ইউনিস ঘিরে ফেলেছে। স্থল সেনারা সমন্বিতভাবে হামলা চালিয়ে জডনখানেক সন্ত্রাসীকে নির্মূল করেছে।

ভূমধ্যসাগরের দিকে পশ্চিমে অগ্রসরমান ইসরায়েলের ট্যাংক মঙ্গলবার উপকূলের দিকের বহির্মুখী রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। ফলে রাফায় চলে যেতে চেষ্টা করা বেসামরিক নাগরিকরা আর পলানোর পথ পাচ্ছে না।

সেকারণে, দক্ষিণের অবরুদ্ধ এই খান ইউনিস নগরীতে এখন অবস্থান করছে গাজার ২৩ লাখ জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ।

সেখানকার এক অধিবাসী ফোনে জানিয়েছেন, তিনি রাফায় চলে যেতে চাইছেন। কিন্তু ইসরায়েলের ট্যাংক উপকূলের খুব কাছে অবস্থান নিয়েছে এবং পশ্চিমের দিকে গুলি ছুড়ছে।

গাজায় গত ২৪ ঘন্টায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১৯৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ নিয়ে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবমতে, নিহত হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯০ ফিলিস্তিনি।

আরও হাজার হাজার মানুষের লাশ হয়ত ধ্বংসস্তুপেই থেকে গেছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। অগ্রসরমান ইসরায়েলি সেনারা হাসপাতালগুলো অবরুদ্ধ করে রাখায় সেখান থেকে মৃত এবং আহতদের উদ্ধার করা যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তারা।

খান ইউনিসের প্রধান নাসের হাসপাতালে লাশ সেখানকার মাটিতেই কবর দেওয়া হচ্ছে। কারণ, কবরস্থানে যাওয়া নিরাপদ নয়।

গাজার খান ইউনিস নগরীর দখল নিতেই গত সপ্তাহ থেকে সেখানে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের পদাতিক বাহিনী, সঙ্গে আকাশ হামলা চলছেই। মিশর সীমান্তের কাছের শহর খান ইউনিসেই হামাসের মূল সদর দফতর রয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

তারা বলেছে, গত ৭ অক্টোবর হামাসের যে অংশটি ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে ১২শ’র বেশি মানুষকে হত্যা করেছে তারা খান ইউনিস থেকেই এসেছিল। একমাসের মধ্যে এই নগরীতে সবচেয়ে বড় অভিযান চালানোর দিনই ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ সেনার মৃত্যু দেখেছে ইসরায়েল।