Published : 03 May 2026, 12:25 AM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ যে প্রস্তাব নাকচ করেছেন, সেখানে তেহরান মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার শর্তে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চেয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন এক ইরানি কর্মকর্তা।
ওই প্রস্তাবে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার কথা বলেছিল, শনিবার তিনি এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা থামার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় ব্যাঘাত ঘটানো সংঘাত থামাতে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তির কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের নৌযান ছাড়া বেশিরভাগ দেশের জাহাজ ও ট্যাংকারকেই হরমুজ থেকে বের হতে দেয়নি তেহরান। এর পাল্টায় গত মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগামী বা বন্দরগুলো থেকে বেরিয়ে আসা জাহাজের ওপরও অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
এর মধ্যেই শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবেও তিনি ‘সন্তুষ্ট নন’। তবে তেহরান কী প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, সে সম্বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেসময় কিছুই বলেননি।
“তারা এমন জিনিস চাইছে, যাতে আমি রাজি হতে পারি না,” হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছিলেন ট্রাম্প।
রয়টার্স এবং আরও অনেক পশ্চিমা গণমাধ্যম ট্রাম্পের বলার আগেই ইরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে খবর দিয়েছিল। ওই প্রস্তাবে যে ইরান অবরোধ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলতে রাজি—সে বিষয়টিও জানিয়েছিল তারা। ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা তাদের ওই খবর নিশ্চিত করলেন।
ওয়াশিংটন বারবার বলে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না—এমন নিশ্চয়তার চুক্তি ছাড়া তারা যুদ্ধ শেষ করবে না। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাঝে ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প যখন ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেসময়ও তিনি পরমাণু চুক্তিকেই তার প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন।
তেহরান বলছে, তারা আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যেই তাদের পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে আসছে এবং অস্ত্র বানানোর কোনো উদ্দেশ্যই তাদের নেই।
সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় নাম না প্রকাশ করার শর্তে ঊর্ধ্বতন ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, তেহরান মনে করছে, দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছানোর স্বার্থেই পরবর্তী পর্বের জন্য পরমাণু আলোচনা তুলে রাখার প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে।
তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আর হামলা চালাবে না এমন নিশ্চয়তা দিলেই যুদ্ধ থেমে যাবে। এর পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে, যুক্তরাষ্ট্রও তার অবরোধ তুলে নেবে।
পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানা নিয়ে কথা বলবে। তেহরান যদি তার কর্মসূচি কিছুকালের জন্য স্থগিত রাখতে রাজিও হয়, সেক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে স্বীকৃতি দিয়ে রাখতে হবে।
“এই রূপরেখা অনুযায়ী, তুলনামূলক জটিল পারমাণবিক সমস্যার আলোচনা একদম শেষ ধাপে সরিয়ে রাখা হয়েছিল—যেন আগে একটা সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করা যায়,” বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প এ প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় পশ্চিম এশিয়া ফের যুদ্ধের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে অনেক বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন।