Published : 07 Sep 2026, 07:54 PM
ইন্দোনেশিয়ার ‘আনাক ক্রাকাতাউ’ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে অন্তত ২ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানী জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ চারটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিতের মেয়াদ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
জাকার্তা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটিতে শুক্রবার গভীর রাতে উদগিরণ শুরু হয়। এরপর লাভা নির্গমনের পাশাপাশি এর ছাই জাকার্তা এবং পার্শ্ববর্তী লামপুং প্রদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
আকাশসীমা ও বাতাসে ছাইয়ের প্রভাবে ওই এলাকার একাধিক স্কুলে সরাসরি ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইনে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচল।
সুকর্ণ-হাত্তা বিমানবন্দরের ডিপার্চার হলে আটকে পড়া যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই টিকিটের অর্থ ফেরত নেওয়া কিংবা পরবর্তী ফ্লাইটের হালনাগাদ তথ্যের জন্য সেখানে ভিড় করেন।
পূর্ব জাভার মালাং থেকে জাকার্তায় ফেরার পথে বিমানবন্দরে আটকে পড়া ৪৬ বছর বয়সী যাত্রী ফিন্না বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে বলেন, “সকালের ফ্লাইটের যাত্রীদের ভিড়ের সঙ্গে পরের সূচির যাত্রীরাও জমা হওয়ায় চরম গোলযোগের সৃষ্টি হয়। আমরা সবাই ফ্লাইট তথ্যের পর্দার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।”
পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা না করে শেষ পর্যন্ত দুটি আন্তঃনগর ট্রেন বদলে সোমবার ভোরে জাকার্তা পৌঁছান তিনি।
একই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দাতব্য সংস্থা ‘সেভ দ্য রাইনো ইন্টারন্যাশনাল’-এর কর্মকর্তা জো শ জানান, আগ্নেয়গিরির সতর্কবার্তা বাড়ায় তারা জাতীয় উদ্যানে ক্যাম্পিংয়ের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।
অন্যদিকে, এক সপ্তাহ বালিতে হানিমুন কাটিয়ে দেশে ফেরার পথে আটকে পড়া ২৯ বছর বয়সী মালয়েশীয় পর্যটক আমির হামজাহ বার্তা সংস্থা বারনামাকে বলেন, “আমাদের বলা হয়েছে ১১ সেপ্টেম্বরের আগে কুয়ালালামপুরের আর কোনো ফ্লাইট নেই। আরও পাঁচ দিন আমরা এখানে কী করব? আমাদের কাছে শুধু মধুচন্দ্রিমার বাজেট ছিল।”
হামজাহ আরও বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে সোমবার সকালের ফ্লাইটে বাড়ি ফিরব। কিন্তু এভাবে দীর্ঘ দিনের জন্য আটকে পড়ব, তা কখনো ভাবিনি।”
সোমবার ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে আবারও আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাতের উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানায়, আকাশসীমায় বাতাসে আগ্নেয়গিরির ছাই জাভা অংশে ৬ হাজার মিটার এবং সুমাত্রা অংশে ১৫ হাজার মিটার উঁচুতে ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরভাগান্ধি জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বিমানবন্দরগুলোতে প্রতি ৩০ মিনিট পর পর পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
পুরভাগান্ধি বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনশীল হওয়ায় বিমান চলাচল পুনরায় কখন শুরু হবে তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।
কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির মুখ থেকে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সব ধরনের যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছে। তবে এতে সুনামির কোনো হুমকি নেই বলে নিশ্চিত করেছে সরকার।
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগিরণ ঘটে।
এর আগে ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের এক অংশ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামিতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।