Published : 30 Jan 2026, 11:04 AM
শান্তি আলোচনার জন্য মস্কো যেতে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়া ফের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিন।
তবে মস্কো এখন পর্যন্ত ওই আমন্ত্রণের ব্যাপারে জেলেনস্কির কাছ থেকে কোনো উত্তর পায়নি, বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এমনটা বলেছেন বলে রুশ সংবাদমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্সের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইউক্রেইনে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের মধ্যে ক্রেমলিন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানোর এ খবর দিল।
গত বছর এমনই এক আমন্ত্রণ জেলেনস্কি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বলেছিলেন, তিনি এমন দেশের রাজধানীতে যেতে পারেন না, যে দেশ প্রতিদিনই তার দেশে ক্ষেপণাস্ত্র মারছে। তিনি উল্টো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেই ইউক্রেইনে নামতে বলেছিলেন।
দুই দেশ সম্প্রতি আরও এক দফা যুদ্ধক্ষেত্রে মৃতদের দেহ বিনিময় করেছে।
জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রসঙ্গে ক্রেমলিনের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শীতের মধ্যে ইউক্রেইনে রাশিয়া এক সপ্তাহ হামলা চালাবে না বলে পুতিন তাকে কথা দিয়েছেন। এরপরই কিইভ ও মস্কো একে অপরের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালাবে না এমন সমঝোতার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তবে ক্রেমলিন এসব বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
দিনকয়েক আগে আবু ধাবিতে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি আলোচনা যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছাতে নতুন গতি সঞ্চার করলেও রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিরোধ এখনও রয়েই গেছে। যে কারণে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই অব্যাহত আছে। এদিকে তীব্র শীতের মধ্যে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ইউক্রেইনকে তার নাগরিকদের ঠাণ্ডার বিপর্যয় থেকে বাঁচাতেও লড়তে হচ্ছে।
শনিবার অনামা এক মার্কিন কর্মকর্তা এক্সিওসকে বলেছেন, আবু ধাবিতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পর পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকের ‘প্রবল সম্ভাবনা’ সৃষ্টি হয়েছে।
রুশ ও ইউক্রেইনীয় প্রতিনিধি দলের মধ্যে রোববার আবু ধাবিতে আরেক দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে হওয়া সবচেয়ে বড় সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক উদ্যোগী হলেও মস্কো ও কিইভের মধ্যে ভূখণ্ড, যু্দ্ধপরবর্তী ইউক্রেইনে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী মোতায়েন ও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ঝাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভবিষ্যৎসহ নানান বিষয়ে যে মতবিরোধ রয়েছে, তার নিষ্পত্তি হয়নি।
এখন পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে কোনো বৈঠক হতে হলে তা অবশ্যই ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েই হতে হবে, যেখানে ফলাফল পাওয়া যাবে, বুধবার এমনটাই বলেছেন ক্রেমলিনের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উষাকভ।
জেলেনস্কি মস্কো গেলে তাকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
একইদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কিইভ ও মস্কোর মধ্যে যেসব বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কোন ভূখণ্ড কে পাবে তা; এর সমাধান করা ‘খুবই কষ্টসাধ্য’।
রাশিয়া চায় দোনেৎস্ক অঞ্চলের যে ২০% এলাকা এখনও কিইভের নিয়ন্ত্রণে আছে, ইউক্রেইনের সেনারা তা ছেড়ে যাক। অন্যদিকে কিইভ বলছে, রাশিয়া যা যুদ্ধক্ষেত্রে জিততে পারেনি, তা তাদেরকে উপহার দিতে চায় না তারা। দনবাসের ওই অংশকে কাজে লাগিয়ে রুশ বাহিনী ভবিষ্যতে ইউক্রেইনের আরও ভেতরে ঢুকে যাওয়ার সুযোগ পাবে বলেও তাদের আশঙ্কা।
বৃহস্পতিবার উষাকভ বলেছেন, আলোচনার টেবিলে থাকা ‘ইস্যুগুলোর মধ্যে কেবল ভূখণ্ড সংক্রান্ত ইস্যুই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ’ বলে তিনি মনে করেন না।
কোনো শান্তি চুক্তি হলে তার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেইনকে কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়ও তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি বলেছেন, ইউক্রেইনের এখনকার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ক্ষমতায় রাখার উদ্দেশ্যেই যদি ওই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা হয়, তাহলে তা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে পারবে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।
এদিকে চেচনিয়ার নেতা রমজান কাদিরভ চান, আলোচনা বাদ দিয়ে মস্কো যুদ্ধই চালিয়ে যাক, তার মাধ্যমেই কিইভের সঙ্গে দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত সমাধান আসবে।
“আমি বিশ্বাস করি, যুদ্ধকে শেষ পর্যন্ত নেওয়া উচিত। আমি আলোচনার বিরুদ্ধে,” ক্রেমলিনে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন কাদিরভ।