প্রথমবারের মত আকাশ থেকে গাজায় ত্রাণ ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র

যদিও ত্রাণ সংস্থাগুলো বলেছে, আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলার বিষয়টি ত্রাণ বিতরণের অকার্যকর একটি উপায়।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 March 2024, 04:21 AM
Updated : 3 March 2024, 04:21 AM

জর্ডানের বিমান বাহিনীর সহায়তায় তিনটি সামরিক উড়োজাহাজ থেকে প্যারাসুটের মাধ্যমে গাজা ৩৮ হাজারের বেশি খাবারের প্যাকেট ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “শনিবার সি-১৩০ পরিবহন প্লেন থেকে গাজার উপকূলীয় এলাকায় ত্রাণের প্যাকেট ফেলা হয়েছে।

“আকাশ থেকে ত্রাণ বিতরণের এই প্রচেষ্টা স্থল করিডোর এবং স্থল পথে ত্রাণ প্রবাহ সম্প্রসারণসহ গাজায় আরও সহায়তা পাঠানোর একটি স্থির প্রচেষ্টার অংশ।”

এর আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, মিশর ও জর্ডান আকাশ থেকে গাজায় ত্রাণ ফেললেও এই প্রথম আকাশ থেকে গাজায় ত্রাণ সহায়তা পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে গাজার উত্তরাঞ্চলে ত্রাণ নিতে যাওয়া ভিড়ের মধ্যে গুলির ঘটনায় অন্তত ১১২ জন নিহত এবং ৭৬০ জন আহত হয়েছে।

হামাস দাবি করেছে, ইসরায়েলি বাহিনী ত্রাণ নিতে আসা ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের ভিড় লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছুড়েছে। আর ইসরায়েল এ ঘটনায় তাদের দায় এড়াতে যেসব কথা বলছে তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা ত্রাণবাহী ট্রাকের উপর হামলে পড়ে ত্রাণ লুটপাট করা শুরু করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে ইসরায়েলি সেনারা আকাশে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে হুড়াহুড়ি শুরু হয়ে যায়। তাতেই ‘পদদলনে’ এত বেসামরিক ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য প্রকল্প (ডব্লিউএফপি) থেকে বার বার গাজা বিশেষ করে গাজার উত্তরাঞ্চল দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্ত দাঁড়িয়ে আছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেও তারা বলেছে, গাজার উত্তরাঞ্চলের প্রায় তিন লাখ ফিলিস্তিনি সামান্য খাদ্য ও পনীয় জলের অভাবও পূরণ করতে পারছে না। নানা কারণে ওই এলাকা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও ঠিকমত পালন করা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার ত্রাণ নিতে গিয়ে অত মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

Also Read: গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে আহতদের একটি বড় অংশ গুলিবিদ্ধ: জাতিসংঘ

Also Read: গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ ফেলবে মার্কিন সামরিক বাহিনী: বাইডেন

ঘটনার পরপর জাতিসংঘের একটি দল গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতাল পরিদর্শনে যায়। এই হাসপাতালটিতেই হতাহতদের বেশিরভাগকে আনা হয়েছে। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে জতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন আহতদের একটি বড় অংশ গুলিবিদ্ধ।

সেদিনের সেই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এদিকে, গাজায় ছয় সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির কাঠামো প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা শনিবার বলেন, ইসরায়েল নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো ‘কম-বেশি মেনে নিয়েছে’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেন, “যদি হামাস বিশেষ করে অসুস্থ, আহত, বয়স্ক এবং নারীদের মত দুর্বল জিম্মিদের মুক্তি দিতে রাজি হয় তবে গাজায় ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন আজ (শনিবার) থেকেই শুরু হবে।”

আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলার বিষয়ে বাইডেন প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের ‘দুঃখজনক ঘটনা ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবাহ সম্প্রসারণ ও টিকিয়ে রাখার গুরুত্ব’ তুলে ধরেছে।

যদিও ত্রাণ সংস্থাগুলো বলেছে, আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলার বিষয়টি ত্রাণ বিতরণের অকার্যকর একটি উপায়।

গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মেদহাত তাহের বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই পদ্ধতিটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

“একটি স্কুলে থাকা মানুষদের জন্য এই ত্রাণ কী যথেষ্ট হবে? ১০ হাজার মানুষের জন্য কী এটা যথেষ্ট?

“প্যারাসুটের মাধ্যমে আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলার চেয়ে সীমান্তে পেরিয়ে ত্রাণ পাঠানো অনেক ভালো।”