১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো ঋণ ছাড়াল ৪০ লাখ কোটি ডলার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদে শপথ নেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় ঋণ ছিল ১৯ লাখ ৯৫ হাজার কোটি ডলার। এক দশকের কম সময়ের মধ্যে তা এখন দ্বিগুণেরও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো ঋণ ছাড়াল ৪০ লাখ কোটি ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অর্থমন্ত্রণালয় ভবন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 07:38 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:52 PM

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে বুধবার জানিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুদ পরিশোধের ব্যয় যতটা বাড়ছে, তার তুলনায় কর ছাড়ের কারণে রাজস্ব আদায় অনেক কম হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের আর্থিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক নগদ অর্থ ও ঋণস্থিতির বিবৃতি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার। 

এর মধ্যে জনগণের ট্রেজারি সিকিউরিটিজের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ঋণ ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে যখন প্রথম শপথ নিয়েছিলেন, তখন কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় ঋণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার (১৯ লাখ ৯৫ হাজার কোটি ডলার)। এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে তা এখন দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, সরকারি ঋণ বৃদ্ধির তৃতীয়াংশই ঘটেছে  ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে কোভিড-১৯ মহামারী সামলাতে সরকারের নেওয়া জরুরি ঋণ কর্মসূচির কারণে। 

বাদবাকি ঋণের জন্য দায়ী এই দুই প্রেসিডেন্টের নেওয়া অর্থনৈতিক নীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও ব্যয়ের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতা।

বাজেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়ানোর আশঙ্কা করছিল। তারা সতর্ক করে বলেছিল, আইনপ্রণেতারা এখনই পরিস্থিতি সামালাতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশে পুরোদস্তুর ঋণ সংকট দেখা দিতে পারে। 

সংকট ঠেকাতে কর বাড়ানো, সরকারি ব্যয় কমানো অথবা দুটোই করার প্রয়োজন হতে পারে বলে তারা জানিয়েছিল।

নিরপেক্ষ কমিটি ‘ফর আ রেসপন্সিল ফেডারেল বাজেট’- এর প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস বলেন, “৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ কেবল সরকারের হিসাবের খাতায় থাকা কোনও সংখ্যা নয়। এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে এবং কোনও না কোনওভাবে মানুষের পকেটেই টান পড়ে।”

তিনি বলেন, “আমরা যত বেশি ঋণ নেই, মূল্যস্ফীতির চাপ তত বাড়ে, বাজেটের অন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হয় এবং দেশের ভেতরে জরুরি পরিস্থিতি বা বিদেশে অস্থিরতার সময় আমরা আরও ঝুঁকিতে পড়ি।”

ম্যাকগিনিস আরও বলেন, “ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার পেরোনোর পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

গত ২০ বছরেরও কম সময়ে দেশটির ঋণ চারগুণ বেড়েছে। অথচ ১৯৮১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ প্রথম ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতেই এত সময় লেগেছিল।”