১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের ৫ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

আরও ৩৬টি স্থানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে বিভিন্ন আবাসিক ও শিল্পাঞ্চলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের ৫ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র
ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর তেল আবিবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jul 2025, 05:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:20 PM

সম্প্রতি সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের অন্তত পাঁচটি সামরিক স্থাপনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে বলে রাডার তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ এসব স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কথা এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। দেশটির কঠোর সামরিক সেন্সরশিপ আইনের কারণে এসব তথ্য দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশ করাও নিষিদ্ধ। 

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এই স্যাটেলাইট রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তারাই উদ্ধার করা নতুন এই তথ্যগুলো দ্য টেলিগ্রাফ-কে জানিয়েছেন। 

যুদ্ধক্ষেত্রে বোমা হামলার ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিত করতে বিশেষায়িত এই দল জানিয়েছে, উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্য ইসরায়েলের পাঁচটি সামরিক ঘাঁটিতে ছয়টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ক্ষতিগ্রস্থ ঘাঁটিগুলোর মধ্যে একটি প্রধান বিমান ঘাঁটি, একটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কেন্দ্র এবং একটি লজিস্টিক ঘাঁটি রয়েছে।  

দ্য টেলিগ্রাফ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকরণের হার কিংবা ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।

“আমরা শুধু বলতে পারি, পুরো অভিযানের সময় আমাদের সব বাহিনী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে,” বলেন আইডিএফের একজন মুখপাত্র।

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম শহর বির শেবায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম শহর বির শেবায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি

এই পাঁচটি এলাকার বাইরে আরও ৩৬টি স্থানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে বিভিন্ন আবাসিক ও শিল্পাঞ্চলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। 

টেলিগ্রাফ লিখেছে, দেশব্যাপী আবাসিক এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলে নিহত হয়েছে মাত্র ২৮ জন। দেশটির উন্নত সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং আশ্রয়কেন্দ্রের (বোম্ব শেল্টার) কার্যকর ব্যবহারের কারণেই এ হতাহতের সংখ্যা সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 

টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরোধ হার যুদ্ধ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে। এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা ইসরায়েলের সীমিত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ও ইরানের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র কৌশলকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে কারণ হতে পারে ইসরায়েলের হাতে প্রতিরোধযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুত এবং ইরানের উন্নত ফায়ারিং কৌশল ও প্রযুক্তির ব্যবহার।

ইসরায়েলের বিখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ ব্যবস্থা আসলে স্বল্পপাল্লার হামলা প্রতিরোধে কার্যকর এবং দেশটির ‘স্তরভিত্তিক’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশমাত্র।

এই ‘স্তরভিত্তিক’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যবর্তী স্তরে রয়েছে ‘ডেভিডস স্লিং’, যা ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম। সবচেয়ে উঁচু স্তরে রয়েছে ‘অ্যারো’ সিস্টেম, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে বায়ুমণ্ডলে ঢোকার আগেই ধ্বংস করে।

ইসরায়েলের রেহভোত শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের রেহভোত শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি

১২ দিনের এই যুদ্ধে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর পাশাপাশি ইরানের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ভূমিভিত্তিক টিএইচএএডি (থাড) সিস্টেমের মাধ্যমে এবং লোহিত সাগরে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা হয়েছে।

এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কমপক্ষে ৩৬টি টিএইচএএডি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার প্রতিটির খরচ প্রায় এক কোটি ২০ লাখ ডলার।

মাত্র ৯৭ লাখ জনসংখ্যার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ইসরায়েলে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় দেশটির জনগণ হতবাক। সরকারও জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছে—এই ব্যবস্থা ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়’।