দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপকেই তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।
Published : 02 Apr 2025, 10:18 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি পণ্যে বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন, যার পরিমাণ এবং কী কী পণ্য কীভাবে এই শুল্কের আওতায় পড়বে সেদিকে তাকিয়ে আছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপকেই তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাণিজ্য অংশীদার কানাডা, মেক্সিকো, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের পণ্য তার শুল্কের আওতায় পড়েছে।
রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট বলছেন, মিত্র অধিকাংশ দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে ‘অন্যায্য’ আচরণ করছে। সেই অন্যায্যতা ঘুচিয়ে বুধবার শুল্ক আরোপ করে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘মুক্তির দিন’ আনতে যাচ্ছেন তিনি।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে তিনি এই ‘মুক্তির দিনের’ শুল্ক কাঠামো ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তার এই ঘোষণার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী সব দেশই অস্বস্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, তারা ট্রাম্পের পদক্ষেপ দেখে পাল্টা ‘শক্তিশালী ও যথোপযুক্ত’ ব্যবস্থা নেবে। মার্কিন প্রশাসনের আরোপিত শুল্ক ইতালির উৎপাদকদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আগেই সতর্ক করে রেখেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, ট্রাম্পের শুল্কের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ‘কোনো কিছুকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না’।
সম্ভাব্য সকল পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি আছে, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য আলোচনাও চলছে, বলেছেন তিনি।
এদিকে বিশ্ববাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনও বলছে, তারা ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে প্রস্তুত। এরই মধ্যে তারা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য জোরদারের প্রস্তাবও দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টায় বেইজিংয়ের পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলেও অনেকের আশঙ্কা।
বিবিসি লিখেছে, কোন কোন পণ্যে কেমন শুল্ক দেওয়া হবে, এবং কারা কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ট্রাম্পের ঘোষণার আগে তা বোঝা যাচ্ছে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গণমাধ্যম বলেছে, ট্রাম্প যু্ক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে বসতে পারেন।
তেমনটা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে অনেকে মনে করছেন।
মার্কিন অনেক ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রাম্পের ঘোষণাকে ঘিরে তারা ‘বেশ নার্ভাস’।
বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, আমদানি পণ্যে শুল্ক বসানো হলে তা শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকেই যাবে।
তবে ট্রাম্প সমর্থকদের ভাষ্য, শুরুর দিকে খানিকটা ধাক্কা লাগলেও এই শুল্ক শেষ পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতিকে পথে আনবে এবং দেশের ভেতর অনেক চাকরি তৈরি করবে।
বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার পরপরই নতুন এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। এর বাইরে বৃহস্পতিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঢোকা গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর আলাদা ২৫ শতাংশ শুল্ক বসার কথা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, আগে ট্রাম্পের ঘোষণার দিন সকালেই হোয়াইট হাউজ কোন কোন পণ্যে কেমন শুল্ক বসতে যাচ্ছে তার একটা নোট সাংবাদিকদের শেয়ার করে। কিন্তু বুধবার তেমনটা হয়নি।
“এটা আমেরিকার মুক্তির দিন,” নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এমনটাই লিখেছেন রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেছেন, অটোমোবাইল খাতে যে শুল্ক বসানো হয়েছে উৎপাদকদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাতেই।
“এটা সুরক্ষাবাদ নয়, পুনঃস্থাপন,” ইউএসএ টুডেতে লিখেছেন তিনি।