এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত, ৪ তেল ট্যাংকার ধ্বংস হয়েছে: আইআরজিসি
আট মাস ধরে চলা যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি তেলবাহী ট্যাংকার ও পণ্যবাহী জাহাজগুলোর জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে আর বিধি লঙ্ঘনকারী চারটি তেল ট্যাঙ্কার নৌ-মাইনের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে।
ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর বুধবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনী ও মহাকাশ বাহিনী শত্রুর ওপর প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে।
“হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি নিষিদ্ধ জলপথ ধরে যাওয়ার চেষ্টার সময় বিধি লঙ্ঘনকারী চারটি তেল ট্যাংকার নৌ-মাইনে আঘাত করে ধ্বংস হয়ে গেছে, সেগুলো এখনো জ্বলছে। পাশাপাশি নিয়ম লঙ্ঘনকারী আরও দুটি জাহাজকে থামিয়ে আটক করা হয়েছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “এছাড়া এক অত্যন্ত কৌশলী অভিযানের মাধ্যমে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা কর্মীরা আজ (বুধবার) ভোর ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে (স্থানীয় সময়) উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির উপরে থাকা একটি এমকিউ-৯ ড্রোনকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ভূপাতিত করেছে। এটি ভূপাতিত করা এই ধরনের ৫৬তম ড্রোন।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ইসলামের যোদ্ধারা, ট্রিগারে আঙুল রেখে, শিশু হত্যাকারী জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা এবং আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।”
২৮ ফেব্রুয়ারি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ইরানে ব্যাপক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান বিশ্বের তেল-গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের তেল রপ্তানি ও বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে রেখেছে মার্কিন বাহিনী।
দুপক্ষের মধ্যে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি তেলবাহী ট্যাংকার ও পণ্যবাহী জাহাজগুলোর জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
