১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানি মিত্রদের আসন্ন দ্বিমুখী হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব

উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর একযোগে সমন্বিত হামলা হতে পারে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে- বলেছেন এক সৌদি কর্মকর্তা।

ইরানি মিত্রদের আসন্ন দ্বিমুখী হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব
ইয়েমেনের সানায় হুতি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে হুতি যোদ্ধারা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Aug 2026, 04:42 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

সৌদি আরব তাদের উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে একযোগে বড় ধরনের সমন্বিত হামলার আশঙ্কা করছে।

এক ঊর্ধ্বতন সৌদি কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ দিক থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর উত্তর দিক থেকে ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর দ্বিমুখী হামলা আসন্ন বলে মনে করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বলেন, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও অঞ্চলের অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে যে, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

সম্ভাব্য নিশানার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দর। কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তরের ঘটনাও লক্ষ্য করেছে, যা উত্তর ও দক্ষিণ দুই দিক থেকে সমন্বিত অভিযানের ইঙ্গিত দেয়।

সৌদি কর্মকর্তার এই বিরল সতর্কতা এ বিষয়টিই সামনে এনেছে যে, কীভাবে সৌদি আরব গত কয়েক সপ্তাহে আঞ্চলিক সংঘাতের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

দেশটি ইয়েমেনের হুতি এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলার মুখোমুখি হয়েছে এবং জুলাইয়ের শেষদিকে তাদের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করার পর সৌদি আরব ইরাকে ওই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে যৌথভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইরাকি মিলিশিয়ারা বলেছে, তারা সৌদি আরবের হামলার জবাব দেবে। ওদিকে, সৌদি আরবের ওই কর্মকর্তাও বলেছেন, যে কোনও আগ্রাসনের জবাবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সৌদি আরব প্রস্তুত। 

বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছে। সৌদি সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, হুতিরা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচার গোলাবর্ষণ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে এবং সৌদি জাহাজ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক হামলার দাবি করেছে। এর জবাবে ইয়েমেনে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।