Published : 19 Jan 2026, 08:30 PM
চীনে জন্মহার বাড়াতে নানামুখী সরকারি উদ্যোগের পরও ২০২৫ সালে জন্মহার রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। টানা চতুর্থ বছরের মতো কমেছে দেশটির জনসংখ্যা।
সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চীনে প্রতি ১,০০০ জনে জন্মহার ছিল ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর সর্বনিম্ন।
অন্যদিকে, মৃত্যুহার বেড়ে প্রতি ১,০০০ জনে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০৪ শতাংশে, যা ১৯৬৮ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চীনের জনসংখ্যা ৩৩ লাখ ৯০ হাজার কমে দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটিতে।
বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি সামাল দিতে বেইজিং তরুণদের বিয়ে ও সন্তান নিতে উৎসাহিত করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০১৬ সালে দীর্ঘদিনের ‘এক সন্তান নীতি’ বাতিল করে দুই সন্তানের অনুমতি দেওয়া হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় ২০২১ সালে তিন সন্তানের অনুমতি দেয় সরকার।
বর্তমানে তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রতি মাসে ৩,৬০০ ইউয়ান (প্রায় ৫০০ ডলার) আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে চীন সরকার। বিভিন্ন প্রদেশে অতিরিক্ত বোনাস এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধির মতো সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
তবে কিছু পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। যেমন, কনডম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির ওপর ১৩ শতাংশ কর আরোপ করায় অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
কেন বাড়ছে না জন্মহার?
বিশ্বে সর্বনিম্ন প্রজনন হারের দেশগুলোর একটি চীন। নারীপ্রতি শিশুর জন্ম প্রায় একজন। তাছাড়া,বেইজিংয়ের ‘ইউওয়া পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশু লালন-পালনের জন্য চীন বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ।
দেশটিতে তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই মনে করেন সন্তান লালন-পালন করা অত্যন্ত ‘পরিশ্রমের’ কাজ।
বেইজিংয়ের এক বাসিন্দা বিবিসি-কে বলেন, “আমার পরিচিত খুব কম সমবয়সীই সন্তান নিচ্ছে। আর যারা নিচ্ছে, তারা ভালো ন্যানি বা ভাল স্কুলে ভর্তি করা নিয়ে এত বেশি চিন্তিত যে তা ক্লান্তিকর মনে হয়।”
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের জনসংখ্যার এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে এবং ২১০০ সালের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অর্ধেক হয়ে যেতে পারে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটিতে জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় কর্মক্ষম জনশক্তি কমছে এবং ভোক্তাদের চাহিদাও হ্রাস পাচ্ছে।
এছাড়া, বয়স্কদের পেনশনের তহবিলও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছে চাইনিজ একাডেমি অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস। দ্রুত বাড়তে থাকা বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় পর্যাপ্ত তহবিল গঠন এখন বেইজিংয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।