টাইগার শ্রফকে গুলি: অস্ত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন ২ নারী
এই দুই নারী ভারতের শীর্ষ সন্ত্রাসী লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কের অংশ ছিল।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই চারজন লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। রোববার সন্ধ্যায় যারা শ্রফের গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল তাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল এই নেটওয়ার্কটি।
যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদেরকে কুনাল, সুমিত, রাধা ও ববিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের সবার বয়স ১৯ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে কুনাল ও সুমিতের বাড়ি হরিয়ানার সোনিপত জেলায় আর রাধা ও ববিতা উত্তর প্রদেশের।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি আরেক মামলায় জামিনে ছাড়া পাওয়া কুনালের সঙ্গে শ্রফের ওপর হামলার দায় স্বীকার করা অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্যাংটির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা পণ্ডিত এক অডিও বার্তায় এ হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
রাধা ও ববিতা হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উত্তর প্রদেশ থেকে বহন করে নিয়ে মুম্বাইয়ে গিয়ে কুনালের নির্দেশে সেগুলো অভিযুক্তদের হাতে তুলে দিয়েছিল বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে মুম্বাই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রটিকে উদ্ঘাটন করতে পেরেছেন তারা।
ঘটনা প্রবাহ
তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারাগার থেকে বের হয়ে আসার পর কুনালের সঙ্গে হরিয়ানার এক বন্ধুর মাধ্যমে অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে কুনাল একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে পণ্ডিতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। এরপর পণ্ডিতের নির্দেশে কুনাল অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল ও ২০টি গুলি কেনেন বলে অভিযোগ।
প্রায় দুই মাস আগে কুনাল রাধার সঙ্গে দেখা করে তাকে কী করতে হবে তা বুঝিয়ে দেয় ও অস্ত্রগুলো মুম্বাইয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজি করায়।
শ্রফকে গুলি করার তিন দিন আগে ১৫ অক্টোবর কুনাল, রাধা ও ববিতাকে নয়া দিল্লি রেলস্টেশনে নামিয়ে দেন। সেখান থেকে রাধা ও ববিতা ট্রেনযোগে মুম্বাই যান। পিস্তল ও গুলি রাধার ব্যাগের ভেতরে লুকানো ছিল।
এই যাত্রাকালে কুনাল এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন আর পণ্ডিতের কাছ থেকে পাওয়া নির্দেশাবলী তাদের জানাতে থাকেন।
হামলার আগের দিন ১৭ অক্টোবর, শনিবার এই দুই নারী মুম্বাইয়ের দাদার স্টেশনে গিয়ে নামেন। সেখানে তারা একটি হোটেলে ওঠেন। শনিবার সকাল ১১টার দিকে এক কিশোর রাধার কাছ থেকে অস্ত্রসহ ব্যাগটি নেওয়ার জন্য হোটেলের কাছে আসেন।
এর পরদিন ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে হৃত্বিক, রেহান ও ফুল সিং হামলাটি চালান বলে অভিযোগ। হামলার পর পণ্ডিত কুনালকে জানান, হামলাকারীরা মুম্বাইতে আটকা পড়েছে আর তাদের শহর থেকে বের করার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
একই দিন রাধা ও ববিতা দাদার স্টেশন থেকে দিল্লির ফেরার জন্য হরিদ্বার এক্সপ্রেস ধরেন। ২০ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল তাদের নয়া দিল্লি রেলস্টেশন থেকে আটক করে। কুনাল ও সুমিতকে হরিয়ানার সোনিপত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২১ অক্টোবর ট্রেনে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাজস্থানের কোটা থেকে হৃত্বিক, রেহান ও ফুল সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়।
