টাইগারের ওপর হামলা: সেটে কারা আসছে-যাচ্ছে, যাচাইয়ের তাগিদ
টাইগার শ্রফকে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বলিউডের অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর শুটিং সেট ও স্টুডিওর নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।
চলচ্চিত্রশিল্পের কর্মীদের সংগঠন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই) বলেছে, কেবল তারকা নন, শুটিংয়ে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য কর্মী নিয়োগের আগে তাদের পরিচয় ও অতীতের তথ্য যাচাই করতে হবে।
এছাড়া শুটিং সেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এ বিষয়ে এফডব্লিউআইসিই একটপি নির্দেশিকা জারি করেছে। তাতে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটি বলছে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
গেল ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে বের হওয়ার সময় টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিনেতার শরীরে গুলি না লাগলেও তবে সামান্য আঘাত পান তিনি। গুলিবিদ্ধ হন তার গাড়িচালকসহ দুজন।
সেদিন হামলাকারীদের সহযোগী তৃতীয় একজন খানিকটা দূরে তার মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। টাইগারকে লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি চালানোর পর, তিনজন একটি বাইকে করে পালিয়ে যায় এবং জয়পুরগামী ট্রেনে ওঠার আগে আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে বাইকটি ফেলে রেখে যায় ।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হামলাকারীরা সালমান ছাড়াও অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার এবং আমির খানসহ বেশ কয়েকজন তারকার বাড়িও আগে থেকেই রেকি করেছিল।
যারা তুলনামূলক কম নিরাপত্তায় থাকেন, তাদেরই সহজ নিশানা হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। এই হামলার জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে পরিকল্পনাকারীদের দেড় লাখ রুপি দফারফা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি পুলিশের।
হামলার ছক যেমন ছিল
হামলাকারীরা মুম্বাইয়ে বেড়াতে আসা ব্যক্তির পরিচয়ে একটি অটোরিকশা এবং একটি বাইকে করে শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন ২০ দিন ধরে।
শহরে থাকার সময় আন্ধেরি ইস্টের চার থেকে পাঁচটি হোটেল বদলেছিল তারা। পুলিশের অনুমান, নজর এড়াতেই বারবার থাকার জায়গা বদল করা হয়েছিল।
পুলিশ জেনেছে, রেকি করে তারা বুঝতে পারে যে সালমান এতটাই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকেন যে, তাদের পক্ষে অভিনেতার কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
এরপর সোশাল মিডিয়া অনুসরণ করে তারা বুঝতে পারেন টাইগার শ্রফ কোনো নিরাপত্তা বলয়ে থাকেন না। তখন তারা নিশানা বদলে ফেলেন। তারা টাইগারের সোশাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ করে তার গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকেন।
টাইগার যে ওই স্টেডিয়ামে আছেন, হামলাকারীরা সেই তথ্য পেয়েছিলেন একজন অটো রিকাশচালকের মারফতে। এর আগ ১১ অক্টোবর তারা স্টেডিয়ামের বাইরে পৌঁছান টাইগারকে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে। কিন্তু সেদিন অভিনেতা সেখানে যাননি।
এরপর তারা অস্ত্র হাতে পান শনিবার, আর গুলি করেন রোববার। সেদিন অস্ত্রধারীরা সাতটি গুলি ছোড়েন। আরও গুলি ছোড়ার চেষ্টা করলে একটি বন্দুকে ত্রুটি দেখা দেয়। তারা পালিয়ে যান।
হামলায় দেশি-বিদেশি দুই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তবে হামলাকারীদের বিদেশি অস্ত্রটির নির্দিষ্ট মডেল বা কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তেমন জানতে না।
টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর মুম্বাই থেকে পালানোর সময় হামলাকারীরা একটি অজ্ঞাত স্থানে দুটি অস্ত্রই ফেলে দেয়। মুম্বাই পুলিশ এখন সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
হামলার জন্য অস্ত্রধারীদের ৫০ হাজার রুপি অগ্রিম দেওয়া হয় বলেও তদন্তে এসেছে। হামলার পর বাকি ১ লাখ রুপি পরিশোধ এবং বিদেশি চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয় তাদের।
টাইগার শ্রফের ওপর হামলার দিন রোববারই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও বার্তা সামনে আসে, যেখানে এক ব্যক্তিকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, “আমি অনিল পণ্ডিত। আমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মত।
“পুরো চলচ্চিত্র শিল্পে যেই আমাদের সাথে তাল না মিলিয়ে কাজ করবে, কিংবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, তাকেই হত্যা করা হবে। এটিই প্রথম এবং শেষ সতর্কতা।”
