টাইগার শ্রফ নয়, মূল নিশানা ছিল অন্য কেউ: এনডিটিভি
নিশানা পরিবর্তনের পর শ্রফকে হত্যা করে বলিউডে আতঙ্ক ছড়ানো অস্ত্রধারীদের উদ্দেশ্য ছিল, সূত্রের বরাতে লিখেছে এনডিটিভি।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার রহস্য অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে।
মঙ্গলবার এনডিটিভি লিখেছে, টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি করা হলেও এ অভিনেতা সন্ত্রাসীদের ‘মূল নিশানা ছিল না’। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এমনটিই জানা গেছে বলে সূত্রের বরাতে লিখেছে সংবাদমাধ্যমটি।
একটি সূত্র বলেছে, “অস্ত্রধারীরা অন্য এক উচ্চপদস্থ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে হত্যার জন্য মুম্বাইয়ে এসেছিলেন। সেই ব্যক্তির চলাচল করা এলাকা ঘুরে দেখার পর অস্ত্রধারীরা বুঝতে পারেন তাকে নাগালে পাওয়া যাবে না। তখন তারা নিশানা পাল্টে টাইগার শ্রফের দিকে গুলি করেন।”
এ অভিনেতার যে পুলিশি নিরাপত্তা নেই, সেটি তার ভক্তদের পোস্ট করা রিলস থেকে জানতে পারেন হামলাকারীরা। এরপর থেকে তারা শ্রফ ও ভক্তদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টগুলোতে নজর রাখতে শুরু করেন। তাতে টাইগার শ্রফের গতিবিধি তারা পেয়ে যান।
নিশানা পরিবর্তনের পর শ্রফকে হত্যা করে বলিউডে আতঙ্ক ছড়ানো তাদের উদ্দেশ্য ছিল বলে সূত্রটি এনডিটিভিকে জানিয়েছে।
অস্ত্রধারীরা সাতটি গুলি ছোড়েন। আরও গুলি ছোড়ার চেষ্টা করলে একটি বন্দুকে ত্রুটি দেখা দেয়। হামলায় শ্রফ, তার গাড়িচালক ও একজন অটোচালক আহত হন।
সূত্রগুলো এনডিটিভিকে বলেছে, হামলার জন্য অস্ত্রধারীদের ৫০ হাজার রুপি অগ্রিম দেওয়া হয়। হামলার পর আরও অর্থ পরিশোধ এবং বিদেশি চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয় তাদের।
মহারাষ্ট্রের ডেপুটি চিফ মিনিস্টার একনাথ শিন্ডে সোমবার শ্রফের বাসভবনে তার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, সরকার এই ধরনের ‘গুন্ডামি’ বন্ধ করতে চায়।
মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে রোববার সন্ধ্যায়। একটি ফুটবল মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় হামলার মুখে পড়েন টাইগার। মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি গুলি চালান।
হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জুহু পুলিশ তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।
টাইগার শ্রফের ওপর হামলার দিন রোববারই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও বার্তা সামনে আসে, যেখানে এক ব্যক্তিকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, “আমি অনিল পণ্ডিত। আমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মত।
“পুরো চলচ্চিত্র শিল্পে যেই আমাদের সাথে তাল না মিলিয়ে কাজ করবে, কিংবা সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবে, তাকেই হত্যা করা হবে। এটিই প্রথম এবং শেষ সতর্কতা।”
এই অনিল পণ্ডিতই নতুন বার্তায় বলেছেন, সালমান ক্ষমা না চাইলে তাকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। আর অভিনেতা ক্ষমা চাইলে তাদের আর কোনও শত্রুতা থাকবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি, সালমানের সঙ্গে যারা যোগাযোগ রাখেন, তাদের এবং তার পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন অনিল।
অডিও বার্তায় অনিলের বক্তব্য, সালমান কেন প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের পাশে দাঁড়াননি? ২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বাইয়ে নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল সুশান্তকে।
ভারতের রাজস্থানের প্রভাবশালী বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সঙ্গে সালমানের বিরোধ অনেক পুরনো। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে শুটিং করতে গিয়ে সালমান খান দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করেন। বিরল প্রজাতির এই হরিণকে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করে।
এরপরই সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়। এ মামলায় ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের জেলও হয় সালমানের। পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পান তিনি।
কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়ায় বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সদস্য সন্ত্রাসী লরেন্স বিষ্ণোই সালমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। এরপর একাধিকবার সালমান ও তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের ওপর হামলার চেষ্টা করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং।
