১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩ কার্তিক ১৪৩৩

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা

গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে টাইগার বেঁচে যান। তবে তার গাড়ির চালক আহত হন।

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা

ছবি: এনডিটিভি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 18 Oct 2026, 09:51 PM

Updated : 18 Oct 2026, 10:33 PM

ভারতের মুম্বাইতে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা হয়েছে।

এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের জুহুতে রোববার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে টাইগার বেঁচে যান। তবে গুলিতে তার গাড়ির চালক আহত হন।

এ ঘটনায় ১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আটককৃতের নাম জানানো হয়নি।

খবরে বলা হয়, রোববার একটি ফুটবল মাঠ থেকে বেরিয়ে আসার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সন্ত্রাসী গ্রুপ লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেন।

ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, টাইগার শ্রফ তাদের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছেন। কারণ তিনি তাদের নির্দেশ মানছিলেন না এবং আরেক বলিউড নায়ক সালমান খানের সঙ্গে কাজ করছিলেন।

গুজরাটের কারাগারে বন্দি গ্যাং স্টার বিষ্ণোই এর আগেও একাধিকবার সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

টাইগার শ্রফ বলিউডের এক সময়কার জনপ্রিয় অভিনেতা জ্যাকি শ্রফের ছেলে। অভিনয়ের পাশাপাশি টাইগার পেশাদার মার্শাল আর্ট শিল্পী হিসেবেও পরিচিত। চমৎকৃত নাচের জন্যও তিনি জনপ্রিয়।

এনডিটিভি বলছে, টাইগার এবং সলমন খান একসঙ্গে কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় না করলেও, তাদের মধ্যে বেশ নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ২০১২ সালে বলিউড প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার ‘হিরাপান্তি’ সিনেমায় প্রথম নায়ক হিসেবে টাইগার বলিউডে তার যাত্রা শুরু করেন। শোনা যায়, সলমন খানই মূলত নাদিয়াদওয়ালাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন টাইগারকে সিনেমায় নেওয়ার। টাইগার শ্রফের বাবা জ্যাকি শ্রফ একাধিক চলচ্চিত্রে সলমন খানের সঙ্গে কাজ করেছেন।

হামলার ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও বার্তা সামনে আসে, যেখানে এক ব্যক্তিকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, “আমি অনিল পণ্ডিত। আমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মত। টাইগার শ্রফের সাথে আজ যা ঘটেছে, তার দায় আমি ও হারমান সান্ধু নিচ্ছি। টাইগার শ্রফকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সে আমাদের কথা বুঝতে চায়নি।

“পুরো চলচ্চিত্র শিল্পে যেই আমাদের সাথে তাল না মিলিয়ে কাজ করবে, কিংবা সলমন খানের সঙ্গে কাজ করবে, তাকেই হত্যা করা হবে। এটিই প্রথম এবং শেষ সতর্কতা।”

অডিও বার্তায় সতর্কবার্তাটির পুনরাবৃত্তি করে বলা হয়, “সলমন খান যদি লরেন্স এবং পশুপ্রেমী বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা না চান, তবে আমরা তোমার পরিবারের কাউকেই রেহাই দেব না, এমনকি তোমাদের পোষা কুকুরকেও না।”

Image

ছবি: এনডিটিভি

ভারতের রাজস্থানের প্রভাবশালী বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সঙ্গে সালমান খানের বিরোধ অনেক পুরনো। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে শুটিং করতে গিয়ে সালমান খান দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করেন। বিরল প্রজাতির এই হরিণকে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করে। এরপরই সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়। এ মামলায় ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের জেলও হয় সালমানের। পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি পান তিনি।

কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়ায় বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সদস্য সন্ত্রাসী লরেন্স বিষ্ণোই সালমনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। এরপর একাধিকবার সালমান ও তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের ওপর হামলার চেষ্টা করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং।

টাইগার শ্রফের ওপর হামলার আগে সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের সাবেক মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকীকে গুলি করে হত্যা করে বিষ্ণোই গ্যাং।