Published : 09 Aug 2026, 11:17 AM
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে করা নতুন ত্রিপক্ষীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে নয় বলে জোরালোভাবে জানিয়েছেন তুরস্কের নেতারা।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শনিবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে সাধারণ হুমকি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তার বন্ধন শক্তিশালী করতে শুক্রবার মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই তিন দেশের কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তাদের সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
ফিদান বলেছেন, “আমরা চুক্তিতে কোনো সাধারণ হুমকির কথা উল্লেখ করিনি।”
তিনি আরও জানান, যে সব দেশ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারীদের আক্রমণ করবে না, তাদের লক্ষ্যস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
নেটোর অনুচ্ছেদ ৫ ধরনের প্রতিশ্রুতি
ফিদান এই চুক্তিটিকে ‘কৌশলগতভাবে’ নেটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের যৌথ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ধারার অনুরূপ বলে বর্ণনা করেছেন। এই ধারা অনুযায়ী, এক সদস্যের ওপর হামলাকে সবার ওপর আক্রমণ বলে বিবেচনা করা হয়।
তবে এর প্রয়োগ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
এ বিষয়ে ফিদান বলেছেন, হামলার মুখে পড়া দেশটিকে সহায়তার অনুরোধ করতে হবে আর কী ধরনের সমর্থন তার দরকার সেটি নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। এর আওতা হবে গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সরবরাহ থেকে শুরু করে গোলাবারুদ বা সামরিক ইউনিট মোতায়েন পর্যন্ত।
এই জোট তাদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের একত্র করতে রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটিও প্রতিষ্ঠা করবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে জোটের একটি সচিবালয়ও হবে।
ফিদান জানান, দেশ তিনটি যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান, সরবরাহ, হুমকি মূল্যায়ন ও আন্তঃপরিচালনযোগ্যতা নিয়েও কাজ করবে।
এই চুক্তির এক উল্লেখযোগ্য অংশ হবে প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা। ফিদান জানান, মক্কায় তিন নেতার মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম প্রধান ইস্যু ছিল। একে অপরের সামরিক প্রযুক্তি থেকে দেশগুলো কীভাবে লাভবান হতে পারে সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তুরস্কের এই মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই চুক্তির জন্য প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তার দেওয়া এই তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে শুধু ইরানের সঙ্গে জড়িত বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতেই এই চুক্তি করা হয়নি।
যোগ দিতে পারে মিশর
ফিদান বলেছেন, “বাইরের আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো এই অঞ্চলে এসে সমস্যাগুলোর সমাধান করে না, তারা সেগুলোকে আরও তীব্র করে তোলে।”
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে এই উদ্যোগের ‘কেন্দ্রীয় দেশ’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি আর পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, আঙ্কারা চায় এই ব্যবস্থার সম্প্রসারণ হোক।
ফিদান বলেছেন, “আমাদের প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গী অনুযায়ী, আমাদের তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না। আমাদের বাড়তে হবে আর প্রয়োজন হলে সব দেশকে এই ছাতার নিচে আনতে হবে।”
ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে ফিদান জানান। মিশরকে ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করে কায়রো এই চুক্তিতে যোগ দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
তুরস্ক-সৌদি আরব-পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই
পাকিস্তান-তুরস্কের সঙ্গে ‘কাগুজে চুক্তি’ সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দেবে না: ইরান