Published : 17 May 2026, 02:02 PM
চীনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দুইদিনের সফর শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাইওয়ান বলেছে, তারা ‘সার্বভৌম ও স্বাধীন’।
তবে একইসঙ্গে তারা ‘প্রণালির দুই পারের স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখতেও আগ্রহী, যার অর্থ- তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে না।
চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেইজিং ছাড়ার সময় ফক্স নিউজকে দেওয়া ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় শনিবার স্বশাসিত দ্বীপটির এ বিবৃতি আসে, জানিয়েছে আল জাজিরা।
আগের দিন শুক্রবার সেই সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাইওয়ান নিয়ে বলেছিলেন, “আমি কাউকে স্বাধীনতার পথে যেতে দেখতে চাই না।”
১৯৪০ এর দশকে চীনে গৃহযুদ্ধের পর থেকেই তাইওয়ানের স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি বারবার ঘুরেফিরে এসেছে। বেইজিং দ্বীপটিকে তার নিজের অংশ বলে দাবি করলেও, তাইপের অনেকে নিজেদের ‘সার্বভৌম’ দেখতে পছন্দ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে নেই, তারা ‘এক চীন’ নীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু দ্বীপটির সুরক্ষায় অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহে ওয়াশিংটন নিজেদের আইনে বাধ্য।
মার্কিন অনেক প্রেসিডেন্টই তাদের আমলে তাইপেকে নিয়মিত অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহযোগিতা করেছেন। কেউ কেউ এটাও বলেছেন, চীন তাইওয়ানকে আক্রমণ করে বসলে তারা দ্বীপটির পাশে দাঁড়াবেন।
কিন্তু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাইওয়ানের সুরক্ষায় পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে দৃঢ়তা দেখাননি।
“তাদের হয়ে যুদ্ধে লড়তে হলে আমাদেরকে সাড়ে ৯ হাজার মাইল (১৫ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার) পাড়ি দিতে হবে। আমি সেটা দেখতে চাই না। আমি চাই তারা ঠাণ্ডা হোক। চীনও ঠাণ্ডা হোক।
“আমরা যুদ্ধ দেখতে চাই না। বর্তমান পরিস্থিতি যেমন আছে তেমনই রাখা হলে আমার মনে হয় চীন সেটা মেনে নেবে। আমরা এমন অবস্থা চাই না যেখানে কেউ বলবে, ‘চলো স্বাধীন হয়ে যাই, কারণ যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পেছনে আছে’,” বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তাইওয়ান ও বেইজিংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ট্রাম্পের এবারের চীন সফরেও বড় ছায়া ফেলেছিল।
‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে তাইওয়ানই যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু’ বৈঠকে শি ট্রাম্পকে এ কথা বলেছেন বলে চীনা গণমাধ্যমে খবরও এসেছে।
তাইওয়ান প্রসঙ্গ ‘ভুলভাবে সামাল দেওয়া হলে’ যুক্তরাষ্ট্র-চীন ‘সংঘাতেও লিপ্ত হতে’ পারে বলে চীনের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেছিলেন।
চীনের নেতার সঙ্গে আলোচনা স্মরণ করে ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দ্বীপটির ব্যাপারে শি ‘একেবারেই অনমনীয়’ এবং তারা স্বাধীনতা নিয়ে কোনো ধরনের ‘নড়াচড়া করুক’ চীনের প্রেসিডেন্ট তা চান না।
“তবে এ ব্যাপারে আমি কোনো পক্ষকেই কোনো প্রতিশ্রুতি দেইনি,” বলেছেন ট্রাম্প।
তাইওয়ানে হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রিতে তিনি অনুমোদন দেবেন কিনা সে বিষয়ে এখনও ‘সিদ্ধান্ত নেননি’ বলেও তখন জানিয়েছিলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ‘এখনও বদলায়নি’, জানাল তাইওয়ান
স্বশাসিত দ্বীপটির ‘স্বাধীনতা’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘কৌশলগত ধোঁয়াশা’ ধরে রাখায় চীনের কোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে তাইপের সুরক্ষায় ওয়াশিংটন সর্বশক্তি নিয়ে দাঁড়াবে কিনা—সে প্রশ্নও থেকেই যাচ্ছে।
তবে ট্রাম্পের পূর্বসূরী জো বাইডেন ২০২২ সালে এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে ‘শক্ত অবস্থান’ নিয়েছিলেন।
‘সিক্সটি মিনিটস’ নামের এক নিউজ শো’তে তাকে চীনের হাত থেকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের পাশে দাঁড়াবে কিনা সে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, যদি বাস্তবে এমন নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে।”
পরে অবশ্য বাইডেন প্রশাসন প্রেসিডেন্টের ওই মন্তব্য থেকে পিছু হটে। তারা জানায়, এ প্রসঙ্গে দশক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থান ধরে রেখেছে, তা বদলায়নি।
এমন অবস্থান সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১৯৭৯ সালে করা এক আইনের বলে তাইওয়ানকে ‘আত্মরক্ষায়’ ক্রমাগত অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে। তাইপের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য সম্পর্কও বেশ ভালো।
শনিবার এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ট্রাম্প এবং মার্কিন কর্মকর্তারা এটা স্পষ্ট করেছেন যে ওয়াশিংনের নীতে ‘এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে’।
তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের কাজও অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে তারা।
তাইপে বলছে, চীনের সামরিক হুমকিই এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘প্রধান ঝুঁকি’।
“তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি কেবল তাইওয়ানের নিরাপত্তায় করা অঙ্গীকারের বাস্তবায়নই নয়, এটি আঞ্চলিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধও,” বিবৃতিতে বলেছে তারা।
চীন সফর শেষে তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণায় সতর্ক করলেন ট্রাম্প