১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তেল ট্যাংকারে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজে আক্রমণ চালানো হবে: আইআরজিসি

ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র দুটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালানোর পরদিন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এ হুঁশিয়ারি জানায়।

তেল ট্যাংকারে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজে আক্রমণ চালানো হবে: আইআরজিসি
হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির স্পিডবোট। ছবি: তাসনিম

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 May 2026, 11:39 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে কোনো ধরনের হামলা বা হস্তক্ষেপ হলে ওই অঞ্চলে থাকা কোনো একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ও ‘শত্রুর জাহাজে’ কঠোর পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে।

ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র দুটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালানোর পরদিন শনিবার আইআরজিসি এ হুঁশিয়ারি জানায়, ইরানি সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা। 

ইরানি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, “ইরানি ট্যাংকার ও বাণিজিক জাহাজগুলোতে কোনো হামলা হলে এই অঞ্চলে আমেরিকার কোনো একটি কেন্দ্রে ও শত্রুর জাহাজগুলোতে প্রচণ্ড হামলা চালানো হবে।” 

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। এতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে শত শত জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। আটকা পড়া এই জাহাজগুলোকে হরমুজের সংকীর্ণ জলপথ পার করার লক্ষ্য নিয়ে নিয়ে ৪ মে ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামের একটি অভিযানের উদ্যোগ নিয়েছিল মার্কিন নৌবাহিনী। কিন্তু এই অভিযান শুরুর চেষ্টা করতেই পারস্য উপসাগরে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। 

পরিস্থিতির চাপে ৫ মে ১ ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে চলা মার্কিন অবরোধ বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।

৭ মে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করার সময় দুটি ইরানি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, পাশাপাশি প্রণালিটির কেশম দ্বীপে বেসামরিক এলাকায় এবং নিকটবর্তী ইরানের মূল ভূখণ্ডের বন্দর খামির ও সিরিকের উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা হরমুজ প্রণালির পূর্বে ও ইরানের চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে হামলা চালিয়েছে বলে জানায়। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর জবাবে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা আর অন্য অবস্থানগুলোতে হামলা চালিয়েছে।  

৮ মে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের বন্দরগুলোর দিকে এগোতে থাকা ইরানের পতাকাবাহী দুটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে তারা। 

ইরানি গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলায় একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায় আর এর এক নাবিক নিহত ও আরও ১০ জন আহত হয়। ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালির পূর্বে ওমান উপসাগর থেকে একটি তেল ট্যাংকার জব্দ করে। এই ট্যাংকারটি তাদের তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ ইরানি বাহিনীর।  

একই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এ ঘটনায় তিনজন সামান্য আহত হয়েছে। 

এদিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, “প্রত্যেকবার একটি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা সামনে আসে আর যুক্তরাষ্ট্র একটি বেপরোয়া সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়।”

এসব সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বজায় আছে বলে দাবি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। 

যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এমন একটি প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরান জবাবের অপেক্ষায় আছে ওয়াশিংটন। এ সময়টিতেই ইরানের তেলবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর যেকোনো ধরনের আক্রমণ বা হস্তক্ষেপ ঘটলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ার জানাল আইআরজিসি। 

আরও পড়ুন: 

যুদ্ধ শেষ করার মতো কাছাকাছি অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান