Published : 08 Jan 2026, 07:07 PM
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর প্রধান আইদারুস আল-জুবাইদি ইয়েমেন থেকে পালিয়েছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, আমিরাতের সহায়তায় তিনি প্রথমে নৌকায় করে সোমালিল্যান্ড পালিয়ে যান এবং পরে মোগাদিশু থেকে বিমানে করে আবুধাবির একটি সামরিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
বুধবার রিয়াদে ইয়েমেন সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জুবাইদির যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন; এরপরই তার পালানোর এ খবর এল, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই শক্তিশালী দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে রাজনৈতিক ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সৌদি জোট তাদের বিবৃতিতে বলেছে, জুবাইদি ও তার সঙ্গীরা সোমালিল্যান্ড থেকে মোগাদিশু হয়ে একটি বিশেষ বিমানে চেপে আবুধাবির আল রিফ সামরিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি আমিরাতি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও তাদের ভাষ্য।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উড়োজাহাজটি ওমান উপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় এর শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং অবতরণের মাত্র ১০ মিনিট আগে তা পুনরায় চালু করা হয়।
সৌদি জোট সরাসরি সেই আমিরাতি কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করেছে, যার কাছে জুবাইদি সাহায্য চেয়েছিলেন। জুবাইদি আবুধাবিতে অবস্থান করছেন, এমন খবর নিশ্চিত হলে তা রিয়াদকে আরও ক্ষুব্ধ করতে পারে। কারণ সৌদি আরব শুরু থেকেই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমিরাতকে চাপ দিয়ে আসছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত বিরোধ এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
ইরান সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই দুই দেশ একই জোটের অংশ হলেও গত মাসে বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সরকারকে হটিয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যে ইয়েমেন থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং দেশটিতে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের যে উচ্চাভিলাষী পররাষ্ট্রনীতি আমিরাত গ্রহণ করেছে, জুবাইদির পলায়ন সেটিকেই নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এল।
এসটিসি-র পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল যে, জুবাইদি এডেন বন্দরে সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি করছেন। তবে তার এই আকস্মিক পলায়ন এবং রিয়াদের বৈঠকে অনুপস্থিতি ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। ২০১৭ সালে আমিরাতের সমর্থনে এসটিসি গঠিত হয় এবং পরে তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের জোটে যোগ দেয়।
সৌদি জোট সমর্থিত বাহিনী এখন এডেন ও দক্ষিণ ইয়েমেনের অন্যত্র নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার একাধিক সূত্র দাবি করলেও রয়টার্স তার সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেনি।