Published : 01 Feb 2026, 06:08 PM
প্রয়াত বিনিয়োগকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন সংক্রান্ত নতুন ইমেইলগুলোতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জড়িয়ে করা একাধিক দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতের সরকার।
প্রকাশিত এ ইমেইলগুলোতে মোদীকে নিয়ে বলা কথার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, এমনটা জোরের সঙ্গে বলে সেসব দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়েও দিয়েছে তারা।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইমেইলগুলোতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভারতের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে যেসব বলা হয়েছে সেগুলো ‘এক দণ্ডিত অপরাধীর জঘন্য প্রলাপ’, যা অবশ্যই ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করা উচিত’।
এপস্টিনের প্রভববলয় সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে শুক্রবার মার্কিন সরকার যে বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছিল, সেখানেই এসব ইমেইল পাওয়া গেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমেইলগুলোতে এপস্টিনের একাধিক বার্তায় ভারত, মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পসহ মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তিরই নাম এসেছে।
এক ইমেইলে এপস্টিন দাবি করেছেন, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মোদী যে ইসরায়েল সফর করেছিলেন, তাতে মোদী বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পরামর্শ অনুসরণ করেই ওই সফর হয়েছিল বলেও এতে ইঙ্গিত আছে।
ভারত সরকার এই দাবি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ওই সফরটি যে ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক উদ্যোগ ছিল তা জোর দিয়ে বলছে।
এপস্টিনের ইমেইলের ওই ভাষ্য ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলো এ বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা চাইছে এবং এপস্টিনের নথিতে মোদীর উল্লেখ ভারতের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে অভিযোগও করছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এপস্টিনের ইমেইলের ভাষ্যকে ‘বিব্রতকর ও লজ্জাজনক’ অভিহিত করে সরকারকে বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়ে না দিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা ২০১৯ সালের ২৪ মে তারিখের দুটো ইমেইলের বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন। সেদিনই মোদী দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। আর ওই তারিখের ইমেইলে এপস্টিন দাবি করেছেন, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারবেন।
ইমেইলগুলোতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এপস্টিন ভারতীয় শিল্পপতি অনিল আম্বানিকে বলেছিলেন—ব্যাননের সঙ্গে বৈঠক মোদী ‘উপভোগ করতে পারেন’।
ব্যাননকে লেখা অন্য এক বার্তায় এপস্টিন দাবি করেন, তিনি মোদী সংশ্লিষ্ট ‘খুবই আকর্ষণীয়’ এক বৈঠকে ছিলেন, যদিও কার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল সেখানে তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
এপস্টিন চীনকে ভারতের ‘প্রধান প্রতিপক্ষ’ অভিহিত করেছিলেন এবং পাকিস্তানকে বেইজিংয়ের প্রক্সি। সঙ্গে বলেছিলেন, “মোদী সঙ্গে আছেন।”
এ প্রসঙ্গে মন্তব্য চেয়ে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও আম্বানির কার্যালয় সাড়া দেয়নি।
তবে সবচেয়ে বেশি যে ইমেইল নিয়ে আলোড়ন চলছে, সেটি ২০১৭ সালের ৬ জুলাইয়ের। সেদিন ছিল ইসরায়েলে মোদীর সফরের শেষদিন। ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী সেবারই প্রথম ইসরায়েলে যান।
ওই ইমেইলে এপস্টিন দাবি করেছেন, সফরটি ‘কাজে দিয়েছে’ কারণ মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরামর্শ অনুসরণ করেছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সেবার ইসরায়েলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সফর ছিল, এই তথ্যটুকু ছাড়া এপস্টিনের বলা বাকি কোনোকিছুর সত্যতা নেই।
মোদীর ওই সফর নিয়ে এপস্টিনের ইমেইল এমন সময়ে প্রকাশ হল যখন চলতি মাসেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ফের ইসরায়েলে যাওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকাশিত নথিতে ২০১৪ সালে তখনকার অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক হারদীপ সিং পুরির এপস্টিনকে পাঠানো এক ইমেইলও আছে, যেখানে বোঝানো হয়েছিল-নির্বাচনে মোদীর জয়ের পর কেন ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুরি পরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন এবং এখন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এপস্টিন সংক্রান্ত নথিগুলোতে পুরি ও এপস্টিনের মধ্যে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি বেরিয়ে এসেছিল। সেসময় বিজেপি নেতারা একে ‘অতিরঞ্জিত ও আত্মপ্রচারণামূলক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পত্র কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে বলেছিলেন, ইমেইল পছন্দমতো সম্পাদনা করে মোদী এপস্টেইনের পরামর্শ নিয়েছেন এমন ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেছেন, নতুন আসা নথিগুলোতে একাধিকবার মোদীর নাম আসায় এমন কিছু প্রশ্ন উঠছে, যেগুলোর জবাব দিতে সরকার বাধ্য।