১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত শুরু

দিল্লির এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষা-কে কেন্দ্র করেই অভিযোগের সূত্রপাত। মুখ খুলেছেন অন্তত ১১ শিক্ষার্থী।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত শুরু
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Sep 2026, 05:45 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

ভারতের রাজধানী দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছে অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী। 

এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অভ্যন্তরীন অভিযোগ কমিটি’ (ইন্টারনাল কমপ্লেন্টস কমিটি বা আইসিসি)। অভিযোগ দায়ের হয়েছে গত মে মাসে।

ইতিমধ্যেই একাধিক শিক্ষার্থীকে ডেকে তাদের বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত অধ্যাপক জেএনইউ ক্যাম্পাসেই থাকেন। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিজের কোয়ার্টারে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের ডেকে অশালীন ইঙ্গিত করতেন তিনি। এমনকি, ক্লাসরুমেও নানা সময়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও অশালীন ইঙিগত করে থাকেন তিনি। 

চলতি বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষা-কে কেন্দ্র করে অভিযোগের সূত্রপাত। 

অভিযোগ আছে, ওই সময় অধ্যাপক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এবং আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এমনকি, যৌন প্রস্তাবে সাড়া দিলে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এক শিক্ষার্থী নিজের অভিজ্ঞতার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনানুষ্ঠানিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানান। 

ওই গ্রুপটিতে শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরাই ছিলেন। এরপর আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। ধীরে ধীরে অভিযোগকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১-তে।

এক সূত্র জানায়, ঘটনার পর ওই মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিসি-তে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। এরপর কমিটি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেয়।

যদিও তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪৫ দিনের সেমেস্টার বিরতি শুরু হয়। জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে ক্লাস শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে রলে অভিযোগগুলো আবার আলোচনায় আসে।

তবে অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত জেএনইউ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।

জেএনইউতে অবশ্য যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে একাধিক অভিযোগ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পদক্ষেপও নিয়েছে। 

গত বছর এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহি কাউন্সিল চার জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন এক অধ্যাপক, যার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। 

ওই অধ্যাপক ছিলেন জেএনইউর স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এর সিনিয়র অধ্যাপক সোয়ারণ সিং। জাপান দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। 

ওই কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে একাডেমিক অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয় সমন্বয় করতেন। শেষবার সোয়ারণ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। 

তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল বলেই চাকরি থেকে তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সে সময় দাবি করা হয়েছিল।

এক প্রবীণ শিক্ষকও জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি ২০২৪ সালের মে মাসে ঘটেছিল এবং বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত হয়। তদন্ত চলাকালে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষকেই নিজেদের বক্তব্য এবং সাক্ষী পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়।

নতুন করে ১১ শিক্ষার্থীর অভিযোগ সামনে আসায় ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে জেএনইউর অভ্যন্তরীন অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের পরিবেশ। 

এখন দৃষ্টি আইসিসি-এর তদন্তের দিকে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে কমিটি কী পদক্ষেপ নেয় সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস