Published : 16 Jul 2025, 12:49 AM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে মোটেও বিচলিত না হয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বরং ইউক্রেইনে যুদ্ধ চালিয়েই যেতে চান, যতক্ষণ পর্যন্ত না পশ্চিমারা তার শান্তির শর্তগুলো নিয়ে তৎপর হয়।
লড়াই চলতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেইনে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার কারণে পুতিন দেশটির আরও অঞ্চল দখলে নেওয়ার দাবিও করতে পারেন। ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠ তিন রুশ কর্মকর্তা একথা বলেছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরু করেছিল রাশিয়া। সেই যুদ্ধ তিনবছরে গড়ানোর পর এখনও পুতিন মনে করেন, রাশিয়ার অর্থনীতি এবং সামরিক বাহিনী পশ্চিমাদের যে কোনও বাড়তি পদক্ষেপ সহ্য করে টিকে থাকার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী।
ট্রাম্প সোমবার ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধ করতে রাজি না হওয়ার জন্য পুতিনকে নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। ইউক্রেইনকে অস্ত্র সহায়তা করার ঘোষণা দেন তিনি। ৫০ দিনের মধ্যে পুতিন যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হলে রাশিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোরও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ক্রেমলিনের শীর্ষ পর্যায়ের চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন রুশ কর্মকর্তা বলেছেন, পশ্চিমাদের চাপে পুতিন যুদ্ধ বন্ধ করবেন না।
কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন যে, পশ্চিমাদের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা সহ্য করে যে রাশিয়া টিকে আছে, তারা আরও কঠোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারবে। এমনকি ট্রাম্প রুশ তেলের ক্রেতাদের ওপর শুল্ক চাপানোর যে হুমকি দিয়েছেন, তাও রাশিয়া উৎরে যেতে পারবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রুশ কর্মকর্তা বলেন, “পুতিন মনে করেন ইউক্রেইনে শান্তির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কেউই তার সঙ্গে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেনি। আমেরিকানরাও না। তাই তিনি যা চান তা না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন।”
ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে কয়েকদফায় ফোনালাপ এবং রাশিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সফরের পরও পুতিন মনে করেন, ইউক্রেইন শান্তি পরিকল্পনার ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, বলেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ককে পুতিন মূল্য দেন। উইটকফের সঙ্গেও তিনি ভালো আলোচনা করেছেন। কিন্তু তার কাছে সবকিছুর ওপরে আছে রাশিয়ার স্বার্থ।”