১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে ট্রাম্পের বৈঠকের পর কোনো চুক্তি ঘোষণা হয়নি

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠকটি হয়েছে। কিন্তু বৈঠকে ট্রাম্প কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

ইরান বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে ট্রাম্পের বৈঠকের পর কোনো চুক্তি ঘোষণা হয়নি
তেহরানে একটি সমাবেশে উপস্থিত ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী শ্লোগান দিচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 May 2026, 12:04 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:19 PM

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একটি চুক্তির বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বৈঠক শেষ হওয়ার পর চুক্তির বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি।  

বিবিসি লিখেছে, পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্টতা ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়। 

শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি উভয় দিকের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে হরমুজ প্রণালিকে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং ওই জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।

পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “আমি এখন সিচুয়েশন রুমের বৈঠকে যাচ্ছি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।”

হোয়াইট হাউজের ‘সিচুয়েশন রুম’ এ বৈঠক আয়োজন করা হয় বড় ধরনের সংকট মোকাবেলার জন্য। 

হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সিচুয়েশন রুমে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠকটি হয়েছে। কিন্তু বৈঠকে ট্রাম্প কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি। 

ওই কর্মকর্তা বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু তখনই একটি চুক্তি করবেন যখন সেটি আমেরিকার জন্য ভালো হবে আর তার রেডলাইনগুলোকে সন্তুষ্ট করবে। ইরান কখনোই একটি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।” 

ইরানের এক ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত কিন্তু এখনও অনুমোদন পায়নি।  

ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা ফার্স বিভিন্ন সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো ‘একটি মনগড়া বিজয় চিত্রিত করার চেষ্টা’।  

ইরানের ওই ঊর্ধ্বতন সূত্র নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তিটিতে পারমাণবিক সংক্রান্ত কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই। 

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা অবশ্যই ইরান ও ওমানের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।  

ফার্স বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করার পর তেহরানের শর্তের অধীনে হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করা হবে। 

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট বলেছেন, চুক্তি হলে মার্কিন অবরোধ ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হবে। 

ফার্স জানিয়েছে, জব্দ থাকা ইরানের এক হাজার ২০০ কোটি ডলার অবমুক্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত’ কোনো অর্থ হস্তান্তর করা হবে না।  

আরও পড়ুন:

ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প