Published : 11 May 2026, 01:03 PM
উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি এক দশকের মধ্যে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক অর্থায়ন থেকে সরিয়ে আনা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
রোববার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তাকে এ কথা বলতে শোনা যায়।
“আমি মার্কিন আর্থিক সহায়তা, সামরিক সহযোগিতা বাবদ যে অর্থটুকু আমরা পাই তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চাই,” সিবিএস নিউজের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইসরায়েলের এ প্রধানমন্ত্রী জানান, তারা প্রতিবছর মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার সহায়তা পান।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বাবদ মোট তিন হাজার ৮০০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ অর্থনৈতিক সম্পর্কের পুনর্বিন্যাসে এখন ‘একেবারেই’ সঠিক সময় বলে মনে করেন নেতানিয়াহু।
“আমি পরবর্তী কংগ্রেসের জন্য অপেক্ষা করতে চাই না। এখনই শুরু করতে চাই,” সিবিএসকে এমনটাই বলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট উভয় দলের ঐকমত্য দেখা গেছে। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতা ও জনসমর্থন ক্রমশ পড়ছে।
মার্চে হওয়া পিউ রিসার্চের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের ৬০ শতাইংশ ইসরায়েলের প্রতি অনুকূল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন না। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সঠিক অবস্থান নেবে—নেতানিয়াহুর প্রতি এমন আস্থা নেই বা খুবই নগণ্য এমন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনির সংখ্যাও ৫৯%।
এক বছর আগেও ইসরায়েলের প্রতি অনুকূল দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ না করা মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা ছিল ৫৩%, নেতানিয়াহুর প্রতি অনাস্থা ছিল ৫২ শতাংশের।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জ্যামিতিক উত্থানের সম্পর্ক প্রায় ১০০%।
নাম না বলা কিছু দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এমন কারসাজি’ করেছে যা ‘আমাদের প্রচণ্ড ক্ষতি করেছে, বলেছেন নেতানিয়াহু।
তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেন্সরশিপের পক্ষে নন।
নেতানিয়াহুর মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও দেশে জনসমর্থন হারাচ্ছেন, বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রতি সপ্তাহেই তার প্রতি আস্থাভাজন আমেরিকানের সংখ্যা কমতে দেখা যাচ্ছে।
যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতিও বেশ চড়া। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে ইরানের হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ আরোপই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। যুদ্ধের আগে সঙ্কীর্ণ ওই জলপথ দিয়ে বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের ২০% গন্তব্যে যেত।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই কি ইসরায়েলি পরিকল্পনাকারীরা প্রণালিটি বন্ধ করতে ইরান সক্ষম তা বুঝতে পারেন? জবাবে ‘বিবি’ নামে ব্যাপক পরিচিত নেতানিয়াহু বলেন, “ঝুঁকিটি যে কত বড় তা বুঝতে তাদের সময় লেগেছে, তবে এখন তারা তা বুঝতে পারছেন।”
‘সিক্সটি মিনিটসে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক পরিকল্পনা বা ইরান নিয়ে কোনো সময়সীমা দিতে রাজি হননি। তবে ইরানের নেতৃত্ব বদলালে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে সে সম্বন্ধে তার ধারণার কথা বলেছেন।
“যদি এই শাসনব্যবস্থা অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে বা উৎখাত হয়, আমি মনে করি তাহলে হিজবুল্লাহ’র ইতি ঘটবে, হামাসের ইতি ঘটবে, হয়তো হুতিদেরও ইতি ঘটবে, কারণ সেক্ষেত্রে ইরানের বানানো পুরো সন্ত্রাসী প্রক্সি নেটওয়ার্কের কাঠামো ভেঙে পড়বে,” বলেছেন তিনি।
ইরানের শাসনব্যবস্থার বদল সম্ভব, এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “এটা সম্ভব কিনা? হ্যাঁ সম্ভব। এটা ঘটবেই এমনটা নিশ্চিত? না।”