১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

আরএসএসের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা চায় মার্কিন কমিশন

আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের নিউ ইয়র্ক সফরের আগে এ দাবি উঠল।

আরএসএসের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা চায় মার্কিন কমিশন
ছবি: মোহন ভাগবত

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2026, 12:32 AM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

‘ধর্মীয় উগ্রবাদিতার’ অভিযোগে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। বুধবার নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে এ দাবি তুলেছে তারা।  

পাশাপাশি আরএসএস নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রকম সম্মান জানানো বা তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা যাবে না বলেও দাবি তুলেছে সংস্থাটি। 

এবিপি লাইভে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি এমন এক সময়ে উঠল, যখন সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবত আগামী ২৫ অগাস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য সফর শুরু করছেন। আগামী ২৯ অগাস্ট নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। 

আরএসএস হল বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা দল বিজেপির আদর্শগত ভিত্তি এবং মূল সংগঠন। বিজেপির রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং হিন্দুত্ববাদী নীতিগুলো মূলত আরএসএসের দর্শন থেকেই পরিচালিত হয়। সংগঠনটির বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই কট্টর হিন্দুত্ববাদী দর্শন ছড়ানোর অভিযোগ আছে।  

এর আগে মোহন ভাগবতকে কানাডায় ঢুকতে না দেওয়া ও আরএসএসের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি তোলে দেশটির দুই পার্লামেন্ট সদস্য। জন নিরাপত্তা, বৈদেশিক নীতি, অভিবাসন এবং নাগরিকত্ব বিভাগের মন্ত্রীদের পৃথকভাবে এ বিষয়ে খোলা চিঠি দেন দুই পার্লামেন্ট সদস্য হেদার ম্যাকফার্সন এবং জেনি কোয়ান। 

তাদের বক্তব্য, “কানডায় মোহন ভগবতের আগামন দেশের নাগরিকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। 

বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সরকারকে প্রতিবেদন এবং পরামর্শ দেয় ইউএসসিআইআরএফ। এবিপি লাইভের খবরে বলা হয়, ইউএসসিআইআরএফ চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ এক্স পোস্টে আরএসএসের বিরুদ্ধে ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আরএসএস সদস্য। 

ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসেরও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, আরএসএসের কোনো নেতৃত্ব, তারা যদি ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্তও হন, উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্যের খাতিরে তাদের সম্মান জানানো উচিত নয়। মার্কিন সরকারের বরং উচিত, ধর্মাচারণের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী আরএসএস সদস্যদের নিষিদ্ধ করা।

এর আগে, চলতি বছরের মার্চে বার্ষিক রিপোর্টে ভারতে সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউএসসিআইআরএফ। ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে আরএসএস ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা আরএন্ডএডব্লিউ এর কথা উল্লেখ করে তারা। ভারত যদিও সেই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে।