১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সিরিয়ায় দ্রুজ ও বেদুইনদের সংঘর্ষে নিহত ৩০

সিরিয়ায় ইসলামিক গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্বাধীন অভিযানে গতবছর ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর এটিই সিরিয়ায় সর্বসাম্প্রতিক গোষ্ঠীগত সহিংসতা।

সিরিয়ায় দ্রুজ ও বেদুইনদের সংঘর্ষে নিহত ৩০
সুইদা প্রদেশে দ্রুজ ও সুন্নি বেদুইনদের মধ্যে সংঘর্ষের পর সিরীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের টহল। ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2025, 07:32 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:22 PM

সিরিয়ার সুইদা প্রদেশে দ্রুজ মিলিশিয়া ও সুন্নি বেদুইন উপজাতিদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ খবর জানিয়েছে।

রোববার সুইদা নগরীর আল-মাকওয়াস এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এলাকাটিতে মূলত বেদুইনদের বাস। প্রথমে এই এলাকা ঘিরে ফেলে পরে দখলে নেয় সশস্ত্র দ্রুজ যোদ্ধারা। এরপর সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সুইদার পশ্চিম ও উত্তরের উপকণ্ঠে থাকা দ্রুজ অধ্যুষিত গ্রাম ও শহরে।

দুই দিন আগে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক অভিমুখী মহাসড়কে এক দ্রুজ ব্যবসায়ী অপহরণ হওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় দ্রুজ মিলিশিয়ারা বেদুইন অধ্যুষিত এলাকায় চড়াও হলে পাল্টা হামলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতিকে উত্তেজনার বিপজ্জনক তীব্রতা বৃদ্ধি আখ্যা দিয়ে বলেছে, শান্ত অবস্থা ফেরানোর চেষ্টায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।

সিরিয়ায় ইসলামিক গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্বাধীন অভিযানে গতবছর ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে সাম্প্রতিক গোষ্ঠীগত সহিংসতা।

লন্ডনভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আছে দুই শিশুসহ ২৭ জন দ্রুজ এবং ১০ জন বেদুইন।

সংস্থাটি আরও জানায়, সুমাই ও মাজরাহ শহরে গোলাবর্ষণ হয়েছে এবং তায়রাহ গ্রামের বাসিন্দারা পালিয়ে গেছে। সশস্ত্র লোকজন শহরের উপকণ্ঠে ঢুকে আগুন দিয়ে কয়েকটি বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান না থাকার কারণে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামনে আসছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ছে এবং স্থানীয় সমাজের পক্ষ থেকে বারবার শান্তির আহ্বানের পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে গোলোযোগপূর্ণ এলাকায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

 সুইদার গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর নিজ প্রদেশের জনগণকে আত্মসংযম বজায় রাখা এবং জাতীয় সংস্কারের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার ডাক দিয়েছেন। সিরিয়ার একাধিক প্রভাবশালী দ্রুজ ধর্মীয় নেতাও জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।