Published : 10 Jun 2025, 04:57 PM
ভারতের কেরালা উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুর পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে একাধিক বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত চারজন নাবিক নিখোঁজ হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো থেকে ভারতের মুম্বাইগামী ২৭০ মিটার দীর্ঘ পণ্যবাহী জাহাজ এমভি ওয়ান হাই ৫০৩ এ ঘটনা ঘটে।
কেরালার বেপোর সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১৩০ নটিক্যাল মাইল (২৪০ কিলোমিটার) পশ্চিমে আরব সাগরে থাকার সময় জাহাজটির ডেকের নিচে বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে ভারতের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড উদ্ধার অভিযানে নামে।
জাহাজটির ১৮ জন নাবিক প্রাথমিকভাবে রাবারের ডিঙ্গিতে চড়ে জাহাজটি ছাড়ে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সমন্বিত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকেই সাগর থেকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারকৃত নাবিকদের মধ্যে একজন পরে মারা যান বলে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
জহাজটির চার নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন তাইওয়ানের, দুজন ইন্দোনেশিয়ার এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক বলে জানিয়েছে কেরালার সমুদ্র কর্তৃপক্ষ।
ভারতের কোস্ট গার্ডের শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, জাহাজটির ডেক থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে, একাধিক কনটেইনারে আগুন লেগেছে এবং সাগর ও আকাশপথে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা তৎপর রয়েছেন।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের যুদ্ধজাহাজ আইএনএস সুরাটকে সূচী অনুযায়ী মোতায়েন স্থান থেকে সরিয়ে এনে এ ঘটনায় সাড়া দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
কেরালার কোচি শহরে অবস্থিত ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমান ঘাঁটি আইএনএস গরুড় থেকে একটি ডর্নিয়ার নজরদারি বিমান পাঠিয়ে সাগরে ভাসতে থাকা ক্রুদের খুঁজে বের করা ও জাহাজের আগুন সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এমভি ওয়ান হাই ৫০৩ জাহাজটি ৭ জুন কলম্বো ছাড়ে এবং ১০ জুন মুম্বাই পৌঁছানোর কথা ছিল। ৬৫০টি কনটেইনার নিয়ে আরব সাগরে থাকাকালে মাঝসমুদ্রেই জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি জানিয়েছে, জাহাজটিতে মোট ২২ জন নাবিক ছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডের সময় অন্তত ২০টি কনটেইনার সাগরে পড়ে যায়। তবে সেগুলোর মধ্যে কোনো বিপজ্জনক পদার্থ ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।
সোমবার সন্ধ্যায়ও কেরালার পশ্চিম উপকূলের সাগরে নিখোঁজ চারজনের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছিল। কী কারণে জাহাজটিতে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তাইওয়ানভিত্তিক শিপিং কোম্পানি ওয়ান হাই লাইনস জাহাজটি পরিচালনা করছিল। তারা এখনও ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।