১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার বিস্তার গভীরভাবে উদ্বেগজনক: এমএসএফ

এমএসএফের উপপরিচালক ড. অ্যালান গঞ্জালেজ জানিয়েছেন, এতো দ্রুত ‘এতো বেশি সংক্রমণের ঘটনা’ আগে কখনো রেকডর্ করেননি তারা।

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলার বিস্তার গভীরভাবে উদ্বেগজনক: এমএসএফ
ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিকান অব কঙ্গোর (ডিআরসি) ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া শহরে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) পরিহিত রেড ক্রস কর্মীরা ইবোলা ভাইরাসে মৃত্যুবরণকারী এক চিকিৎসকের কফিন নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 May 2026, 03:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:43 PM

আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিকান অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) ভাইরাসজনিত রোগ ইবোলার দ্রুত বিস্তার ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান মেদসাঁ সঁ ফ্রোঁতিয়ের বা এমএসএফ।  

প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় এমএসএফের উপপরিচালক ড. অ্যালান গঞ্জালেজ জানিয়েছেন, এতো দ্রুত ‘এতো বেশি ঘটনা’ আগে কখনো রেকডর্ করেননি তারা।   

শনিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস সবচেয়ে ইবোলা আক্রান্ত অঞ্চল কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ সফর করেন। সেখানে তিনি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম তদারিক করেন। এ সময়টিতেই ড. গঞ্জলেজ ওই মন্তব্য করেন। 

বিবিসি জানিয়েছে, ডিআর কঙ্গোতে এখন ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়ে গেছে আর অন্তত ২৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী উগান্ডা নয়জন আক্রান্ত হয়েছে আর একজন মারা গেছে বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছে।  

শনিবার এক বিবৃতিতে গঞ্জালেজ বলেন, “ইতুরি প্রদেশে ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘোষণার দুই সপ্তাহ পর পরিস্থিতি গভীরভাবে উদ্বেগজনক। এর আগে কখনোই ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর এতো দ্রুত এতো ঘটনা আক্রান্তের ঘটনা রেকর্ড হয়নি।”

তিনি আরও বলেছেন, “ঘটনাস্থলে থাকা তার দলগুলো মহামারীর দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ এখনও দেখতে পাচ্ছে না। আজকের বাস্তবতা হচ্ছে, এই প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত ব্যাপ্তি ও তীব্রতা সম্পর্কে কারও কোনো ধারণা নেই। প্রতিদিন নতুন সন্দেহভাজন রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে আর এখনও শত শত নমুনা পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে।”  

সীমান্ত ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকার মতো ‘বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার’ কারণে নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা ও মানবিক ত্রাণ সরবরাহ বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলেছে, ডিআর কঙ্গোতে চলমান সংঘাতের কারণেও ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  

প্রধানত আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে ইবোলা সংক্রমণ ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, ডায়রিয়া, লালা, প্রস্রাব, বীর্য ও এমনকী ঘামের মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়ায়। এর পাশাপাশি দুষিত সুঁই, বিছানা বা জামাকাপড় স্পর্শ করার মধ্য দিয়েও ভাইরাসটি ছড়ায়।

ইবোলার রোগীকে পুরোপুরি পৃথক হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করা ও পানিশূন্যতা রোধে সরাসরি শিরায় তরল দেওয়ার মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ এর একমাত্র চিকিৎসা।