Published : 06 Dec 2025, 09:54 PM
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত বরাবর ব্যাপক গুলি বিনিময়ের অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে হওয়া শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার রাতে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে, উভয় পক্ষের কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করে বলেছেন, পাকিস্তানের বাহিনী আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলডাক জেলায় আক্রমণ করা শুরু করে।
মুজাহিদের সহকারী হামদুল্লাহ ফিতরা রয়টার্সকে জানান, জেলাটিতে পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে এক তালেবান সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
অপরদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষের এক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি দাবি করেছেন, আফগান বাহিনী চমন সীমান্ত বরাবর ‘বিনা উস্কানিতে গুলিবর্ষণ’ শুরু করে।
এক বিবৃতিতে জাইদি বলেছেন, “পাকিস্তান পুরোপুরি সতর্ক অবস্থায় আছে এবং নিজের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, তালেবান সেনাদের গুলিতে পাকিস্তানে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের চমনের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ডন আরও জানায়, আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলির পর শনিবার চমন সীমান্ত শান্ত আছে।
দক্ষিণ এশীয় দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সর্বশেষ শান্তি আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এ গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটল। শান্তি আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হলেও দুই পক্ষ তাদের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছিল।
অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর উত্তেজনা কমাতে কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কে একের পর এক বৈঠকের পর এবার সৌদি আরবে আফগান ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বসেছিলেন, কিন্তু সেই আলোচনা কোনো ফল বয়ে আনেনি।
দুই পক্ষের এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ। ইসলামাবাদ বলছে, আফগানভিত্তিক জঙ্গিরা সম্প্রতি পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলাসহ একাধিক হামলা চালিয়েছে, যেগুলোতে আফগান নাগরিকরা জড়িত।
কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা পাকিস্তানের ভেতরকার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারে না।
অক্টোবরের সংঘর্ষে দুই পক্ষের কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছিল। ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর সেটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাত।