১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তানে তুষারধসে প্রখ্যাত পবর্তরোহী নির্মল পুরজাসহ নিহত ১০

পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের ব্রড শৃঙ্গের ৮০৫১ মিটার উচ্চতায় তুষারধসের কবলে পড়েছিলেন পুরজা ও তার ৯ পবর্তারোহী সঙ্গী।

পাকিস্তানে তুষারধসে প্রখ্যাত পবর্তরোহী নির্মল পুরজাসহ নিহত ১০
নির্মল পুরজাকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা পবর্তারোহীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 08:29 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

কারাকোরাম পর্বতের পাকিস্তান অংশের ব্রড শৃঙ্গে তুষারধসে প্রখ্যাত পবর্তারোহী নির্মল পুরজা আরও নয় সঙ্গীসহ নিহত হয়েছেন, শনিবার তার কোম্পানি এ খবর জানিয়েছে।

পুরজা বিশ্বের শীর্ষ ১৪টি পর্বত শিখরে সবচেয়ে দ্রুত আরোহণের রেকর্ড গড়ে খ্যাতিমান হয়েছিলেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, তার অভিযান আয়োজনকারী কোম্পানি এলিট এক্সপেড ইন্সটাগ্রামে এক পোস্টে বলেছে, “আজ আমরা গভীর শোক ও দুঃখের জন্য নিশ্চিত করছি যে নির্মল ‘নিমসদাই’ পুরজা ব্রড শৃঙ্গে তুষারধসে দুঃখজনকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।

“আমরা এটিও নিশ্চিত হয়েছি যে অভিযানে থাকা অন্যান্য সদস্যরাও দুঃখজনকভাবে বেঁচে নেই।”

এলিট এক্সপেড বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের ব্রড শৃঙ্গের ৬৬০০ মিটার উচ্চতায় (প্রায় ২১৬৫৩.৫৪ ফুট) তুষারধসের কবলে পড়েন পুরজা (৪৩) ও তার নয় পবর্তারোহী সঙ্গী। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে-টু থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ১২তম সর্বোচ্চ এই শৃঙ্গটিতে (৮০৪৭ মিটার) আরোহণ অত্যন্ত কঠিন বলে বিবেচিত হয়।

ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর গোর্খা রেজিমেন্টের সাবেক সদস্য পুরজা ২০১৯ সালে মাত্র ছয় মাস ৬ দিনে বিশ্বের ১৪টি আট হাজার মিটার উঁচু পবর্ত শৃঙ্গ জয় করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। এর দুই বছর পরে নেটফ্লিক্সের ডকুমেন্টারি ‘ফোরটিন পিকস: নাথিং ইজ ইম্পসিবল’ মুক্তির পর তিনি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি পান। তিনি প্রথমবারের মতো ১০ নেপালি পবর্তারোহীর একটি দলের অংশ হিসেবে কে-টু পবর্ত শৃঙ্গে সফল শীতকালীন আরোহণ সম্পন্ন করেছিলেন। 

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ব্রড শৃঙ্গে ১০ পবর্তারোহী তুষারধসের কবলে পড়েন। তারপর থেকে পুরো দলটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে নিখোঁজদের সন্ধানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দুটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। এদিন পাকিস্তানের উদ্ধারকারীরা চার পবর্তারোহীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল।

নিহত ১০ পবর্তারোহীর মধ্যে ছয়জন নেপালি (৩ জন শেরপা গাইড) আর বাকিরা পাকিস্তান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নাগরিক। পুরজাকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা পবর্তারোহীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।