Published : 11 Mar 2026, 12:08 AM
ইরানে যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রয়ারিতে নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তার ঠিক ৯ দিনের মাথায় গত রোববার খামেনির ছেলে মুজতাবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে বেছে নেয় ইরান।
এরপর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। কিন্তু জনসম্মুখে তার দেখা মেলেনি এখনও। কোথায় তিনি? না কোনও ভাষণ, না সাংবাদিক সম্মেলন, না খামেনির মতো কায়দায় বাসভবনের বারান্দা থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করার কোনও ছবি বা ভিডিও।
এমনকি মুজতাবা কিংবা তার কার্যালয় থেকে কোনও লিখিত বিবৃতিও সামনে আসেনি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো জনগণের সামনে মুজতাবা খামেনিকে পরিচয় করিয়ে দিতে তার আর্কাইভের ছবি ব্যবহার করছে।
রাষ্ট্রীয়প্রচারযন্ত্রগুলো একজন নেতা হিসাবে মুজতাবাকে তুলে ধরতে এআই ভিডিও এবং স্থিরচিত্র ব্যবহার করছে। মুজতাবা যেন কর্পূরের মতো উবে গেছেন। তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
তিনি ‘জীবিত না মৃত’ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে । আবার অনেকেই ধারণা করছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কোন বাংকারে হয়ত তিনি লুকিয়ে থাকতে পারেন।
এমন সব জল্পনার মাঝেই সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, মোজতাবা বেঁচে আছেন, তবে তিনি আহত। এতে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে যে, আহত হওয়ার কারণেই হয়ত তাকে ভিডিওতে দেখা যায়নি।
তবে তার কাছ থেকে কোনও লিখিত বিবৃতিও কেন আসেনি সেই ব্যাখ্যা এখান থেকে পাওয়া যায় না। রাষ্ট্রীয় টিভির প্রতিবেদনে কেবল মুজতাবাকে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিক (জানবাজ অফ রমজান ওয়ার) বলা হয়েছে।
কোনও ভিডিও ক্লিপও দেখানো হয়নি। কেবল মুজতাবা জখম হয়েছেন বলা হয়েছে। কিন্তু কবে, কীভাবে, এখন তার অবস্থা কেমন, তা নিয়ে মুখ খোলেনি ইরান।সেকারণে তার অবস্থা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
তিনি সামনে না আসার আরেকটি কারণ হতে পারে তাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হতাশা প্রকাশ এবং হুঁশিয়ারি।
ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কেবল খামেনেই নন, তার স্ত্রী, জামাই, ছেলের বউ এবং এক নাতিরও মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাতেই মুজতাবা আহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিও তাদের প্রতিবেদনে মুজতাবাকে যুদ্ধে আহত সৈনিক বলে যেন চলমান যুদ্ধের কথাই বলতে চেয়েছে।
কারণ, সেই ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। মুজতাবাকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসাবে বেছে নেওয়ার পর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
কোনও রাখঢাক না করে তিনি বলেছিলেন, ‘খামেনির ছেলেকে আমার পছন্দ নয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ ছাড়া নেতা বেছে নেওয়া হলে তিনি বেশিদিন টিকবেন না বলেও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ইরানের রাজধানী তেহরান এবং সামরিক স্থাপণাগুলোতে এখনও চলতে থাকা হামলার মধ্যে মুজতাবার অনুপস্থিতি তার নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানসহ অন্যান্য দেশের নেতাদেরও কতল করার লক্ষ্য সাধনে দীর্ঘদিন ধরে লেগে থাকার প্রেক্ষাপটে।
কিন্তু মুজতাবা চোখের আড়ালে থাকলেও ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গন যুদ্ধের মেজাজে তেমন কোনও পরিবর্তন ছাড়াই এখনও কার্যকর রয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর পর এর নিন্দা জানিয়ে সংস্কারপন্থি সাবেক ইরানি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির প্রকাশিত বিবৃতির মতো আনুগত্য প্রকাশ করে আরও এমন বিবৃতি আসছে।
হয়ত সর্বোচ্চ নেতার পদটি খালি নেই, কেবল এই ভাবনাই যুদ্ধ যে গতিতে চলছে, তা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
সূত্র: সিএনএন/ইন্ডিয়া টুডে