২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পশ্চিম তীর সফরে ব্লিনকেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-আরব বিশ্বে বিভক্তি

গাজায় চলমান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন লড়াইয়ে মানবিক বিরতির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।

পশ্চিম তীর সফরে ব্লিনকেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-আরব বিশ্বে বিভক্তি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দন করছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ছবি: রয়টার্স।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Nov 2023, 06:44 PM

Updated : 05 Nov 2023, 11:17 PM

গাজায় চলমান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন লড়াইয়ে মানবিক ত্রাণকাজের জন্য বিরতির চেষ্টা চালাতে ওই অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। সে চেষ্টাতেই রোববার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন তিনি।

পশ্চিম তীরের যে অংশে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ নেই সেখানকার শাসনক্ষমতায় আছেন প্রেসিডেন্ট আব্বাস। তার মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা জানান, ব্লিনকেনের সঙ্গে বৈঠকে আব্বাস গাজায় ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার মতো একই দাবি অন্যান্য আরব দেশগুলোরও। কিন্তু আরব দেশগুলোর এই দাবির সঙ্গে একমত নয় যুক্তরাষ্ট্র। বিবিসি জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন এরই মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি করার ডাক নাকচ করেছেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতি হলে গাজায় হামাস আবার সুসংগঠিত হয়ে আরও হামলা চালানোর সুযোগ পেয়ে যাবে।

ওয়াশিংটন কেবল গাজায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা ঢুকতে দেওয়া এবং সেখানকার মানুষদের সরে যেতে দেওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে লড়াইয়ে বিরতি দেওয়ার প্রস্তাব রেখেছে। এ বিষয়েই কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে ব্লিনকেন ওই অঞ্চল সফর করছেন।

তবে, আরব দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ করেছে। আত্মরক্ষার্থে গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দিয়েছে তারা। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নিজেদের সুরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে আসছে।

কিন্তু ইসরায়েলের হামলায় গাজায় যেভাবে মানুষ মরছে, হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদ এবং গির্জা ধ্বংস হচ্ছে, সেটিকে ইসরায়েলে নিরাপত্তা ফেরানোর অজুহাত হিসাবে মেনে নেওয়া যায় না। আর তা এ অঞ্চলে শান্তিও আনবে না বলেই মনে করেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি।

শনিবার জর্ডান সফরকালে কাতার, সৌদি আরব, মিশর,জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পরই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান নাকচ করেন। তবে গাজায় মানুষ হতাহতের ঘটনা যতটা সম্ভব কমাতে ইসরায়েলকে যথাসম্ভব সবরকম পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Image

ব্লিনকেন। ছবি: রয়টার্স।

এর আগে শুক্রবার ব্লিনকেন ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব সফর করেন। সেখানে ব্লিনকেনের সঙ্গে বৈঠককালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ত্রানকাজের জন্য লড়াইয়ে কোনওরকম মানবিক বিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তেল আবিবের পর শনিবার ব্লিনকেন সফর করেন জর্ডানের আম্মান। এরপরই রোববার পশ্চিম তীরে যান তিনি।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকে ব্লিনকেন গাজায় জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র একথা জানিয়েছেন।

Image

ছবি: ব্লিনকেন ও মাহমুদ আব্বাস। ছবি: রয়টার্স।

তিনি বলেন, ব্লিনকেন এবং আব্বাস পশ্চিম তীরে শান্ত অবস্থা এবং স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে চরমপন্থি সহিংসতা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা এবং দায়ীদের জবাবদিহি করানো নিয়েও  আলোচনা করেছেন।

ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েল উভয়ের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সমান পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আবারও জানান ব্লিনকেন। সেইসঙ্গে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের আকাঙ্খা বাস্তবায়নেও যুক্তরাষ্ট্রের কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

সোমবার ব্লিনকেনের তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে। সেখানেও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।