Published : 21 Aug 2025, 05:18 PM
আলাস্কায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশে ফেরার আগে তিনটি জেটে পুনরায় জ্বালানি ভরতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার নগদ দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ প্রতিনিধিদল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো চ্যানেলে ওই অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি। সে কারণেই জ্বালানির দাম নগদে পরিশোধ করতে হয়েছে মস্কোকে, ব্যাখ্যায় জানান রুবিও।
গেল শুক্রবার আলাস্কায় রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যে শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে তাতে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে আসা পুতিনকে লাল গালিচায় অভ্যর্থনা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু সেদিনও মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ছাড় ছিল না।
“রুশরা যখন আলাস্কায় নামল, তাদের জ্বালানি দরকার হয়ে পড়েছিল। পুনরায় জ্বালানি ভরতে তারা আমাদেরকে নগদ অর্থের প্রস্তাব দেয়, কারণ তারা আমাদের ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করতে পারছিল না,” এনবিসিকে রুবিও এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
মার্কিন এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাশিয়ার ওপর দেওয়া সব নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে এবং এর প্রভাবও বিদ্যমান।
“তারা প্রতিদিনই এর ফল ভোগ করছে, কিন্তু তারপরও যুদ্ধের গতিপথ বদলায়নি। তার অর্থ এই নয় যে, নিষেধাজ্ঞা যথোপযুক্ত ছিল না, কিন্দু আদতে এটির কারণে ফলে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি,” বলেছেন তিনি।
আলাস্কায় পুতিনের দল ৫ ঘণ্টা ছিল, যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনের পরই তারা মার্কিন এ অঙ্গরাজ্যটি ছাড়ে।
ট্রাম্প সেদিন বলেছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি, তবে পুতিন সেদিন তার হাতে ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রস্তাব তুলে দেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ওই প্রস্তাব এখনও টেবিলে আছে, ট্রাম্প ইউক্রেইনকে মস্কোর ওই প্রস্তাব বিবেচনায় নিতে উৎসাহ যুগিয়েছিলেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
শুক্রবার পুতিন-ট্রাম্প প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর দুইপক্ষ ‘বিভিন্ন বিষয়ে’ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানালেও ইউক্রেইন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। হয়নি ‘যুদ্ধবিরতি’ প্রসঙ্গে অগ্রগতিও। অথচ ট্রাম্প নিজেই বৈঠকের আগে ‘যুদ্ধবিরতিকে’ লক্ষ্যমাত্রা বলে অভিহিত করেছিলেন।
রাশিয়াকে ‘যুদ্ধবিরতিতে’ রাজি করাতে যুক্তরাষ্ট্র আরও নিষেধাজ্ঞা কেন দিচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পুতিনকে রাজি করানো যাবে এমনটা বিশ্বাস করেন না তিনি।
রাশিয়া এমনিতেই ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছে, আরও নিষেধাজ্ঞা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে রুশ অর্থনীতিতে তার প্রভাবও পড়বে না বলে মত মার্কিন এ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
“নিষেধাজ্ঞার কামড় বসতে কয়েক মাস এমনকী কয়েক বছরও লেগে যায়,” বলেছেন তিনি।
এদিকে সোমবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে কিইভের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রসঙ্গে বৈঠক করেছেন।
জেলেনস্কি এর মধ্যে বলেছেন, তিনি পুতিনের মুখোমুখি হতে ‘প্রস্তুত’, তবে ইউক্রেইনের কিছু ভূমি রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার যে প্রস্তাব তা মানবেন না।
এদিকে বুধবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেইনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনায় মস্কোকে রাখা না হলে সেই আলোচনার কার্যত কোনো ধরনেরই মূল্য নেই।
মস্কোকে ছাড়া ইউক্রেইনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় ‘কোনো ফল হবে না’: রাশিয়া