২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কেশবপুর প্রেস ক্লাবে দুপক্ষের মারামারির পর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, আহত ৫

কেশবপুর থানার ওসি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, “ওখানে সাংবাদিকদের মধ্যে একটা বিরোধ চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 12:23 AM

Updated : 21 Sep 2026, 12:23 AM

যশোরের কেশবপুর প্রেস ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সাংবাদিকদের মধ্যে মারামারির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পাঁচ সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার কেশবপুর প্রতিনিধি জয়দেব চক্রবর্তী, দৈনিক কল্যাণের আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, সময়ের খবরের জাহিদ হাসান, প্রথম আলোর কেশবপুর প্রতিনিধি দিলীপ মোদক।

সাংবাদিকদের একটি পক্ষ অভিযোগ করেছেন, কেশবপুরের উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি ওয়াজেদ খান ডাবলু, মাহবুবুর রহমান, আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে এই হামলা এবং প্রেস ক্লাব দখলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তারা প্রতিপক্ষের সাংবাদিকদের উপর হামলা চালান।

অপরপক্ষের সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রেস ক্লাবটি দীর্ঘদিন অপেশাদার ও ফ্যাসিস্টদের দোসরদের দখলে ছিল। প্রকৃত সাংবাদিকরা ক্লাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে তাদের পাঁচ সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন হয়। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২৬ সেপ্টেম্বর প্রেস ক্লাবের ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এজন্য দুপক্ষের প্রস্তুতি চলছিল। এ নিয়েই দুই পক্ষের সাংবাদিকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

হামলার পর একটি পক্ষ ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। ওই কমিটিতে দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি মাহাবুর রহমানকে আহ্বায়ক, হারুন আর রশিদকে সদস্যসচিব এবং ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকে সদস্য করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, “দুপুরে বিএনপি নেতা ওয়াজেদ খান ডাবলু, মাহবুবুর রহমান, আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে আট থেকে ১০ জন প্রেস ক্লাবে আচমকা ঢুকে ভাঙচুর করে এবং প্রেস ক্লাব দখল করে। তারা প্রেস ক্লাবে ঢুকেই অন্যান্য সদস্যদের বের করে দেন। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রথম আলোর কেশবপুর প্রতিনিধি দিলীপ মোদককেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।”

তিনি বলেন, “হামলায় জয়দেব চক্রবর্তী ও আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ গুরুতর আহত হলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।”

কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফ উজ জামান অভিযোগ করে বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বহিরাগতরা এসে ‘মব’ তৈরি করে জোরপূর্বক প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টা চালায় এবং আমাদের ক্লাবের ভেতর আটকে রাখে।”

কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ বলেন, এ ঘটনায় তারা থানায় অভিযোগ করবেন।

এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা ও সাংবাদিক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু বলেন, “যারা অভিযোগ করছেন, তারা কেউ সাংবাদিক নন। তারা চাঁদাবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসর। সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকরা গিয়েছেন। তাদের উপর কেউ হামলা করেনি।

“বরং ওরা হামলা চালিয়ে আমাদের পাঁচ সাংবাদিককে আহত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।”

কেশবপুর থানার ওসি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, “ওখানে সাংবাদিকদের মধ্যে একটা বিরোধ চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। আমরা বলেছি, আপনারা থানায় আসেন। আমরা দুপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা করব।”

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “এ বিষয়ে কিছু জানি না। এমন ঘটনা ঘটলে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। কেউ এখনও থানায় অভিযোগ দিতে আসেননি।”