১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণকে অবশেষে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলল ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই সোমবারের এই বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করল নয়াদিল্লি।

দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণকে অবশেষে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলল ভারত
বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত একজনের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Nov 2025, 01:47 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:42 PM

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলেই অবশেষে নিশ্চিত করল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।

বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘটনাটি সন্ত্রাসবাদী বলে গণ্য হয়েছে। আর এরপরই সোমবারের ওই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করল নয়াদিল্লি।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এর যোগ্য জবাব দেবে ভারত। জরুরি ভিত্তিতে এবং কঠোর পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিষয়টি মোকাবেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তদন্ত সংস্থাগুলোকে।

বৈঠকে বলা হয়, দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনা আদতে ভারতের শান্তি এবং একতার উপর আঘাত। এই হামলার নেপথ্যে যে যে স্তরে যারা যারা জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে। 

ফের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে।  

তদন্তকারীরা বলছেন, বিস্ফোরণের ঘটনা এবং এর আগে কাশ্মীরে অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ সাতজন গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়ি বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হন। ২০১১ সালের পর এটাই ছিল শহরটিতে প্রথম বড় ধরনের বিস্ফোরণ।

এই ঘটনার নেপথ্যে যে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রয়েছে, আগেই তা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বুধবার একে সরাসরিই সন্ত্রাসবাদী ঘটনা বলে দেওয়া হল।

এদিন মন্ত্রিসভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “দেশ নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলো গাড়ি বিস্ফোরণের মাধ্যমে এটি ঘটিয়েছে।” 

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনাটি সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর আইনের আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে। হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি বিস্ফোরণের আগে কোথায় কোথায় ঘুরেছিল, তা গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে।

 তদন্তে উঠে এসেছে দিল্লির দুই ব্যস্ততম জায়গার নাম— কনট প্লেস এবং ময়ূর বিহার। লালকেল্লায় আসার আগে ওই গাড়িটিকে দেখা যায় রাজধানীর ওই দুই জনবহুল এবং ব্যস্ততম এলাকায়।

 দিল্লিতে পৌঁছানার আগে ওই গাড়িটি হরিয়ানাতেই ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ওদিকে, হরিয়ানার খাণ্ডওয়ালি গ্রাম থেকে লাল রঙের ফোর্ড ইকোস্পোর্ট গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

এর মালিক উমর, যিনি ঘাতক গাড়িটিতে ছিলেন বলে সন্দেহ। এই গাড়িতে বিস্ফোরক থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গোয়েন্দারা। মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।