Published : 13 Mar 2026, 06:39 PM
হামলায় জখম হলেও বেঁচে আছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে মুজতাবার প্রথম বিবৃতি সম্প্রচার হওয়ার পরই এই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয় সম্ভবত তিনি (মুজতবা) বেঁচে আছেন। আমার ধারণা, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তিনি হয়ত কোনও না কোনওভাবে বেঁচে আছেন।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, মুজতাবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সামান্য আহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
এরপর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মুজতাবার জখম হওয়া এবং জীবিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বললেন। ইরানের নতুন নেতার বার্তা প্রকাশের পর এটিই এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম প্রতিক্রিয়া।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রথম বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতাবা খামেনি বলেছিলেন, “যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যারা নিহত হয়েছেন এ বার তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়াই হবে ইরানের লক্ষ্য।”
পাশাপাশি বিবৃতিতে মুজতাবা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখবে ইরান। শত্রুর উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসাবেই এই প্রণালি বন্ধ থাকবে।
সেইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের সেনাঘাঁটিগুলি বন্ধ না করে তবে সেগুলোতে ইরানের হামলা চলবে।
ওদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প একটি পোস্টে লিখেছেন, “আমরা সামরিক, অর্থনৈতিকসহ সব দিক দিয়ে ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেব। আমাদের কাছে অতুলনীয় সামরিক শক্তি, সীমাহীন গোলাবারুদ এবং পর্যাপ্ত সময় রয়েছে।”
ইরানে গত সপ্তাহে মুজতাবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তার সুস্থতা নিয়ে নানা খবর গণমাধ্যমে আসতে থাকার মধ্যে ট্রাম্প এসব কথা বললেন।
মুজতাবার বৃহস্পতিবারের বিবৃতির আগে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মুজতবা হামলায় পা হারিয়েছেন। তার যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি কোমায় আছেন।
তাছাড়া, সাইপ্রাসে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা সালারিয়ান ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন, তিনি শুনেছেন যে, মুজতাবা খামেনির হাত, পা ও বাহুতে আঘাত লেগেছে এবং আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে থাকতে পারেন।
গত ৯ মার্চও ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে মুজতাবাকে ‘জানবাজ অব রমজান’ বা আহত সৈনিক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা ছড়ায়।